ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
নতুন প্রজন্ম আশার খোঁজে আছে, সব প্রজন্মই একটি দিকনির্দেশনা খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি হিংসা, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে চায়।
আজ শনিবার (১০ই জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, আরেক পাশে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের জানাজা এবং তৃতীয় পাশে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট। এসব ঘটনা সামনে রাখলে বোঝা যায় আগের অবস্থায় ফেরার কোনো প্রয়োজন নেই।’ দেশ যে মূল্য দিয়েছে, বিশেষ করে ৫ই আগস্টের ঘটনা, তা রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে বলেন তিনি।
তারেক রহমান সব রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেটি যেন কোনোভাবেই মতবিভেদ বা জাতিকে বিভক্ত করার পর্যায়ে না যায়। ৫ আগস্টে আমরা দেখেছি তার পরিণতি কী হতে পারে।’
সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সমালোচনা প্রয়োজন। কিন্তু শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়। এমন সমালোচনা চাই, যা দেশের সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।’
দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর কয়েকটি স্থানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলেন তারেক রহমান। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে রাজনীতিবিদদের ওপর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক এবং সব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব না হলেও রাষ্ট্রের সঠিক পথে অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।’
দেশে প্রায় দেড় কোটি কৃষক আছেন বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাদের জন্য ‘অ্যাগ্রি কার্ড’ চালুর ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা ২০ কোটি মানুষের খাবারের সংস্থান করছে, সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো ভেন্যু নেই। তাদের সমস্যাগুলো আমাদেরই জানতে হবে।’
নারীশিক্ষায় মা ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রিভেনশন মডেল অনুসরণ করার কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করা গেলে—কোন খাবার না খেলে কিডনি, হার্ট বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে—তাহলে রাষ্ট্রের ব্যয় কমে, মানুষও সুস্থ থাকে। এ নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা আছে বলেও জানান।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন