ছবি: সংগৃহীত
‘এই পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’-এমন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইলিয়াছ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, এএসআই ইলিয়াছের মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার দিবাগত রাতেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, অনৈতিক মন্তব্যের বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে এএসআই ইলিয়াছ হোসেনের ঘুষ গ্রহণকে প্রকাশ্যে যৌক্তিক দাবি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক মিনিট এক সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি অভিযোগের তদন্তে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াছ হোসেন। তদন্তের সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ঘুষ গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মুঠোফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াছকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে বলেই তো কিছু ঘটে! আমি যদি এখন বলি পুলিশে চাকরি করি, কিন্তু ঘুষ খাই না, তবে কি আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হব? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
খবরটি শেয়ার করুন