সাকিব আল হাসান টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। কিন্তু বিসিবি’র সভাপতি ফারুক আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ফিরে এলে নিরাপত্তার দায়িত্ব বোর্ড নিতে পারবে না। অন্যদিকে ক্রীড়া উপদেষ্টা আরো স্পষ্ট করে বলেছেন— ‘এখন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের একজনকে যতটুকু নিরাপত্তা দেয়া দরকার, দেয়ার দায়িত্ব, দেশে এলে আমরা দেবো। কিন্তু উনার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জনগণের মধ্যে যদি ক্ষোভ থাকে, তাহলে...!’
বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারছেন না। তাহলে ভারতের কানপুরে আজই সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে। তার দেশে ফিরতে না পারার কারণ স্পষ্ট, তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য। যার কারণে তিনি খুনের মামলার আসামি। আর অন্যটি হলো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সাকিব বোর্ডের কাছে আবেদন করেছিলেন, তিনি শেষটা ঢাকায় খেলতে চান এবং খেলা শেষ করে আবার নির্বিঘ্নে বিদেশে ফিরে যেতে চান। তিনি যেহেতু খুনের মামলার আসামি, তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই আবেদন জানিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে বোর্ড অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। তিনি গ্রেফতার হবেন না এমন নিশ্চয়তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
সাকিব বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। তিনি দেশের হয়ে ৭১টি টেস্ট খেলেছেন। ব্যাট হাতে ৫ সেঞ্চুরি ও ৩১ ফিফটিতে ৩৮.৩৩ গড়ে ৪৬০০ রান করেছেন। বল হাতে শিকার করেছেন ২৪২ উইকেট। ৪৩৮ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছেন ১৬৯ ম্যাচে। এখানেও ১১৭ ম্যাচে দলের হয়ে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। যার মধ্যে ২৭টি জয় এনে দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। অন্যদিকে ১৭৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের জয়ের সংখ্যা ৬৮টি। এর মধ্যে ৫৮টি জয়ে সাকিব খেলেছেন দলের হয়ে। তার নেতৃত্বে ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পায় টাইগাররা। পরিসংখ্যানে তার কাছাকাছিও নেই দেশের কোনো খেলোয়াড়।
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের গর্ব। তিনি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়ে একাধিকবার বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তার অনেক ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। তিনি হত্যা মামলার আসামি কেউ বিশ্বাস করবে না, তারপরও যদি কোনো অপরাধ করেন, প্রচলিত আইনে বিচার হবে। কিন্তু দেশের আপামর জনগণের আশা— সাকিব আল হাসানের মতো একজন কিংবদন্তিকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দেয়া হোক।
আই.কে.জে/