ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা জোহরান মামদানি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১লা জানুয়ারি) ভোরে নিউইয়র্কের ওল্ড সিটি হলের নিচের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। খবর সিএনএনের।
৩৪ বছর বয়সী জোহরানের জন্ম উগান্ডায়। তবে তার মা–বাবা দুজনই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। শপথ গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মামদানি বলেন, ‘এটি সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবেলার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন। এ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে একাধিক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। মামদানি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র ও গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।
কুইন্স থেকে নির্বাচিত সাবেক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান মামদানি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভ করে বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দেন। তার নির্বাচনী প্রচারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’ বা সাধ্যের মধ্যে জীবনযাপন নিশ্চিত করা। তিনি সার্বজনীন শিশুযত্ন কর্মসূচি চালু, অন্তত ২০ লাখ বাসিন্দার জন্য বাসা ভাড়া স্থগিত রাখা ও শহরের বাস পরিষেবাকে ‘দ্রুত ও বিনামূল্যে’ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভিন্ন এক প্রতিবেদনে এপি জানিয়েছে, নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিয়েছেন। নিউইয়র্কের পূর্বসূরি মেয়রদের প্রায় সবাই বাইবেল হাতে শপথ নিয়েছেন। তবে ফেডারেল, স্টেট বা সিটির সংবিধানের বাধ্যবাধকতায় শপথের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
এ সময় জোহরান মামদানির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী, শিল্পী রামা দুওয়াজি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন তার বাবা-মা—খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন