ছবি: সংগৃহীত
হলিউডে চার দশক ধরে রাজত্ব করছেন টম ক্রুজ। চলতি বছর ‘মিশন: ইমপসিবল-দ্য ফাইনাল রেকনিং’ সিনেমাতেও নিজের কারিশমা দেখিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ছবির প্রচারে টেক্সাসের দ্য স্কুল অব হার্ড নকস-এর সঙ্গে ইউটিউব সাক্ষাৎকারে হাজির হয়েছিলেন ৬৩ বছর বয়সী অভিনেতা, সেখানে নিজের সম্পদসহ নানা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
সাক্ষাৎকারটি সান অ্যান্টোনিওতে রেকর্ড করা হয়, নতুন ‘মিশন ইমপসিবল’ সিনেমা মুক্তির ঠিক এক দিন আগে। সঞ্চালক এটি তার ‘সবচেয়ে খ্যাপাটে’ সাক্ষাৎকার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই সাক্ষাৎকারে টমকে জিজ্ঞেস করা হয়, তার সফলতার রহস্য কী? মৃদু হেসে টম বলেন, সিনেমা কখনো শুধু পেশা ছিল না, এটি তার পরিচয়। সিনেমার প্রতি এই নিবেদনই ভক্তদের কাছে তাকে টম ক্রুজ বানিয়েছেন।
অভিনেতার ভাষ্যে, ‘আমার কাছে সিনেমা তৈরি মানে শুধু অভিনয় নয়। আমি সব সময় মানুষের সঙ্গে কথা বলি। তাদের আবেগ সম্পর্কে জানাতে চাই। নতুন বিষয়ের প্রতি কৌতূহল, নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকা আমাকে নিজের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে।’
টম ক্রুজ বিখ্যাত তার স্টান্টের জন্য। প্লেন থেকে ঝুলে থাকা বা অনেক উচ্চতা থেকে লাফ দেওয়া; সিনেমার বিপজ্জনক সব স্টান্ট নিজেই করেন। তিনি কি কখনই ভয় পাননি? ‘আমি ভয় পাই না; ভয়ের মুখোমুখি হতে ভালোবাসি। এই যে ভয়কে জয় করার চ্যালেঞ্জ এটিই আমাকে উজ্জীবিত করে।’ টম ক্রুজ মনে করেন, ভয় মোকাবিলায় দরকার গবেষণা, প্রস্তুতি ও দৃঢ়তা।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কিছু আমার কাছে বাস্তব মনে না হয়, আমি তা নিজে জানার চেষ্টা করব। এভাবে ভয় তখন চলে যায়, কিন্তু উত্তেজনা, রোমাঞ্চ থেকে যায়। এটাই চাই, কারণ আমি রোমাঞ্চ ভালোবাসি; একটি দুঃসাহসিক জীবন কাটাতে চাই।’
ক্রুজ জানান, তার স্টান্টগুলো বছরের পর বছর পরিকল্পিত হয়। পরিচালক ক্রিস্টোফার ম্যাককয়ারিকে তিনি প্রশংসা করেছেন। ‘আপনি একটি ঘরে বসে এটার প্রস্তুতি নিতে পারবেন না। এখানে আছে শারীরিক প্রশিক্ষণ, নতুন প্রযুক্তি, পোশাকের সামঞ্জস্য এবং পুরো টিমের নিবেদন। দর্শক পর্দায় যা দেখা যায় সেটাই দেখেন; কিন্তু এসবের পেছনে আছে অনেক পরিশ্রম।’
সাক্ষাৎকারে অবধারিতভাবেই প্রশ্ন আসে টম ক্রুজের সম্পদ নিয়ে। ৬০০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) সম্পদের মালিক টম। এত সম্পদ তিনি কীভাবে গড়লেন।
রহস্য ভেঙে অভিনেতা বলেন, শৈশব থেকেই সব ক্ষেত্রেই সেরা হতে চাইতেন তিনি। যেকোনো কাজেই তিনি সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে চাইতেন। টম ক্রুজ বলেন, ‘সবকিছু নিখুঁত করা সম্ভব নয় জানি, কিন্তু আমি চাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে। মানুষকে সর্বোচ্চ বিনোদন দেওয়ার তাগিদ সব সময় ছিল; এটাই আমাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।’
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ক্রুজ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এমন কিছু দিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করুন যা আপনার জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন। তথ্যের ভান্ডার অনেক বড়।’ তিনি যোগ করেন, ‘নিজের স্বপ্নের পেছনে দৌড়াতে ভয় পাবেন না। নেতৃত্ব মানে হলো সেবা করা—মানুষকে নির্দেশ দেওয়া নয়, তাদের উন্নত করতে সাহায্য করা।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন