রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ের সঙ্গেও কুখ্যাত এপস্টেনের দেখাসাক্ষাৎ ছিল *** তারেক রহমানকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’ *** ক্ষমতায় গেলে ‘বিডিআর’ নাম পুনর্বহাল করবে বিএনপি *** পুলিশের এমন আগ্রাসী মনোভাবের কারণ কী, প্রশ্ন আজহারির *** যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির ২ শিক্ষককে বরখাস্ত *** ‘আসমানে ফয়সালা হয়ে গেছে তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী’ *** ‘বিএনপিকে খুঁজে বের করতে হবে দলটির ভেতরে জামায়াতের হয়ে কারা কাজ করছে’ *** গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়: বায়তুল মোকাররমের খতিব *** এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত *** গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব

গান্ধী বেঁচে থাকলে মুসলিম তাড়ানোর পক্ষেই থাকতেন, দাবি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা রাজ্যের বাংলাভাষী মুসলিমদের আবারও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ভারতীয় আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করে তাদের ‘মিয়া মুসলিম’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, বাপু মহাত্মা গান্ধী বেঁচে থাকলে এই তথাকথিত অভিবাসী বিতাড়ন ইস্যুতে আসামবাসীর পাশে দাঁড়াতেন।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, যদি মহাত্মা গান্ধী বেঁচে থাকতেন, তাহলে তিনি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে আসামবাসীর লড়াইকে সমর্থন করতেন। তার মতে, রাজ্যের অধিকার ও পরিচয় রক্ষা করা কোনোভাবেই ঘৃণার প্রকাশ নয়। 

মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে সরকার বদলায় নির্বাচনের মাধ্যমে। ভয় দেখিয়ে বা কোনো নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে আগেভাগে সরানোর চেষ্টা করে সরকার পরিবর্তন করা যায় না।

এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে হিমন্ত বিশ্বশর্মা লেখেন, ‘আজ যদি বাপু বেঁচে থাকতেন, তিনি আসামবাসীর পাশেই দাঁড়াতেন। আসলে ইতিহাস বলছে, তার হস্তক্ষেপের কারণেই আসাম পাকিস্তানের অংশ হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে ঘৃণা নয়। এটি আসামবাসীর অধিকার, পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়। আমি আপনাকে খুব স্পষ্টভাবে বলছি, গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তন হয় মানুষের ভোটে, ভয় দেখিয়ে নয় বা কোনো নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে টেনে নামানোর চেষ্টায় নয়।’

মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এক্সে লিখেছিলেন, ‘যদি ভারত বাপুর ভারতের মতো হতো, তাহলে দেশের নাগরিকেরা আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে তার অফিস থেকে টেনে বের করত এবং তার ঘৃণামূলক মন্তব্যের জন্য তাকে অভিশংসিত করত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ আমরা নাথুরাম গডসের ভারত, আর তার অনুসারী, ঘৃণা ও বিভাজনের উচ্চ পুরোহিত প্রধানমন্ত্রী মোদির দেশে বাস করছি।’

এই বিতর্ক শুরু হয়েছে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘মিয়া মুসলিম’ মন্তব্যকে ঘিরে। এই শব্দ ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশ থেকে যাওয়া তথাকথিত অভিবাসীদের বোঝাতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তার বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, ‘মিয়া মুসলিম’ শব্দটি তিনি তৈরি করেননি। তার দাবি, বাংলাদেশ থেকে আসা যে জনগোষ্ঠীটি আসামে বসতি গড়েছে, তারাই নিজেদের পরিচয় দিতে এই শব্দটি ব্যবহার করে আসছিল।

এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মিয়া শব্দ ব্যবহার করায় আমাকে আক্রমণ করছেন—যে শব্দটি আসামে বাংলাদেশি মুসলিম অবৈধ অভিবাসনের প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয়—তাদের আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আসাম সম্পর্কে কী বলেছে, তা পড়া উচিত। এটি আমার ভাষা নয়, আমার কল্পনা নয়, কিংবা রাজনৈতিক অতিরঞ্জনও নয়।’

জে.এস/

হিমন্ত বিশ্বশর্মা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250