ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পারদ আরও চড়েছে। অবরুদ্ধ পারস্য উপসাগরে নতুন করে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর বিশ্বকে ২০০ ডলারের তেলের বাজারের জন্য প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড।
ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তেহরান বুঝিয়ে দিয়েছে, পেন্টাগনের দাবি করা ‘ভয়াবহ’ বিমান হামলার পরও তারা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। তেলের দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল, আপনারা এই অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছেন।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের পর বর্তমানে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা চলছে। বিশ্বের মোট সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত অবরুদ্ধ। গতকাল বুধবার আবার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি মালবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি বাল্ক ফ্রেটার, জাপানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের একটি জাহাজ রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে মোট ১৪টি জাহাজ হামলার শিকার হলো।
এদিকে, বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ থামানোর পথ খুঁজে পাবেন। এ কারণে তেলের দাম গত সোমবারের ১২০ ডলার থেকে কমে এখন ৯০ ডলারের আশপাশে থিতু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) তাদের রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল কৌশলগত মজুত ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১১ জন এবং লেবাননে ২ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের তথ্যমতে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন