বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শনিবার রাজধানীতে ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল *** ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে *** ফরাসি সিনেমা ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ দিয়ে শুরু হবে কান উৎসব *** দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে তীব্র আক্রমণের ঘোষণা ট্রাম্পের *** ১২ কেজির এলপিজির দাম বেড়ে ১৭২৮ টাকা *** মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে আমিরাতের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি *** মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টি করে পুলিশকে মারধর, আসামি ছিনতাই *** বজ্রপাতের মতো হঠাৎ এসেছে হাম, আমাদের প্রস্তুতি ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** ‘মাহফুজ আনাম শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, খালেদা জিয়া–তারেক রহমানের কাছে নয়’ *** সংসদে অচলাবস্থা, বাইরে আন্দোলনের ইঙ্গিত

দ্য প্রিন্টের নিবন্ধ

ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, ২রা এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

"ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে এবং আরও অনেক জায়গায় যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন—মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে ও বস্তুগতভাবে—আমরা তাদের কথা মনে রাখি। আমরা ভারতের ভেতরে তরুণ মুক্তিবাহিনী কমান্ডারদের প্রতি দেওয়া সহায়তা ও সমর্থনের কথাও স্মরণ করি," বলেন ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ২৬ মার্চ আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

উপস্থিত দর্শকেরা করতালির মাধ্যমে বক্তব্যকে স্বাগত জানান। এতে মনে হয়, দুই দেশের মধ্যে যে শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিল—যা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে উপেক্ষিত ছিল—তা আবার ফিরে এসেছে।

বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের ইতিহাস ও বীরত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার এই বক্তব্যটি আসে একদিন পর, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় পাকিস্তানের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ ১৯৭১ একটি নৃশংস ও কলঙ্কজনক দিন হিসেবে চিহ্নিত। ওই কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা চালায়।”

এই দুই বার্তা যেন একই কথা বলে: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ, যা ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং প্রায় অচলাবস্থায় পৌঁছেছিল।

ইউনূসের সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কিছু স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় সামনে আসে, যেমন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘ভারত’ শব্দ ছাড়া উল্লেখ করা, এবং ভারতে নির্বাসিত নেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্ন।

ধারণা করা কঠিন নয় যে, নির্বাচিত না হওয়া একজন নেতা হিসেবে ইউনূস ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সীমারেখা ঝাপসা করেছিলেন এবং একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছিলেন।

এখন, তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর, তার পররাষ্ট্রনীতিতে ‘ডি-ইউনূসিফিকেশন’-এর প্রচেষ্টায় ভারতের জন্য দুটি মূল বার্তা রয়েছে—সংবেদনশীলতা ও সম্পৃক্ততা। আর ভারতের উচিত আরও উন্মুক্ত হওয়া।

কূটনৈতিক পুনঃসংযোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিল মাসে ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তার প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।

এই সফরের মূল এজেন্ডার শীর্ষে থাকবে আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ গ্রহণ, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। এরপর আলোচনা হতে পারে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে—১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত ৩০ বছরের এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে।

এছাড়া আলোচনায় উঠে আসতে পারে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রদানের বিষয়টি, যা ঢাকার দৃষ্টিতে এখনও ‘নীরব’ রয়েছে। বাংলাদেশ মনে করে, তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ‘উন্মুক্ত’ থাকলেও দিল্লির পক্ষ থেকে সমপর্যায়ের ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে না। এই ব্যবধানই বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতের অবস্থান নিয়ে একটি ধারণা তৈরি করছে।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ঢাকা সফরের সময়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে, ভিসা সেবা নাকি ‘নীরবে’ চালু করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা না থাকায় বাংলাদেশের অনেক মানুষ তা জানতে পারেননি, যা প্রশ্ন তুলেছে কেন দিল্লি বিষয়টি নিম্নপ্রোফাইলে রাখছে।

বাংলাদেশের কাছে ভিসা এখন শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ও মানসিক সংকেত। তাই বাংলাদেশ প্রথমেই ভিসা প্রক্রিয়ায় উষ্ণতা ও উন্মুক্ততা দেখতে চায়।

ভারত যদি বাংলাদেশে নিজেদের প্রতি বাড়তে থাকা নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশও ভারতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের আশঙ্কা করছে—যা ইউনূসের সময়ের অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদী ও সংকীর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ফল।

দুটি সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল ও অভিন্ন ঔপনিবেশিক ইতিহাস থাকায়, ভিসা বাংলাদেশের মানুষের জন্য শুধু আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পথ। তাই আসন্ন সফরে ভিসা ইস্যুটি জোরালোভাবে উত্থাপিত হতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250