বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘মাহফুজ আনাম শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, খালেদা জিয়া–তারেক রহমানের কাছে নয়’ *** সংসদে অচলাবস্থা, বাইরে আন্দোলনের ইঙ্গিত *** ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে’ রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াত আমিরের *** বাসস সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের নিয়োগ বাতিল *** মার্চে প্রবাসী আয় এসেছে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার *** শেখ হাসিনার রায় বাতিলের দাবি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে যুক্তরাজ্যের ল ফার্মের চিঠি *** শিক্ষামন্ত্রীর এই উদ্ভট চিন্তা কেন? *** লুবাবার বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে আইন অমান্য করেছে: নারীপক্ষ *** যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ *** যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোঝা উচিত, বিশ্বে এখন আর তাদের আধিপত্য নেই: ইরানের রাষ্ট্রদূত

‘মাহফুজ আনাম শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, খালেদা জিয়া–তারেক রহমানের কাছে নয়’

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২রা এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ডেইলি স্টারের সম্পাদক, প্রকাশক মাহফুজ আনাম অতীতে এক-এগারো পর্ব এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকারের সময়কার সম্পাদকীয় নীতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেও তা ছিল একান্তই শেখ হাসিনার প্রতি; তখনের বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া কিংবা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি কোনো ধরনের দুঃখপ্রকাশ করেননি।

গত ২৫ মার্চ ‘প্রথম আলোই একমাত্র হেডমওয়ালা পত্রিকা: ডা. জাহেদ’ শিরোনামে আমার দেশের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে মাহমুদুর রহমান এ অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, এক-এগারো সময়কাল এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বিএনপি ও তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘অর্ধসত্য ও মিথ্যা তথ্যনির্ভর প্রচারণা’ চালিয়েছে।

মাহমুদুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, “ডেইলি স্টারের সম্পাদক ব্যক্তিগতভাবে শুধু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের কাছে দুঃখপ্রকাশ তো দূরের কথা, কোনো আনুষ্ঠানিক অনুশোচনাও দেখাননি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বক্তৃতাকালে অতীতের বিএনপিবিরোধী প্রতিবেদনের পক্ষে ‘প্রকারান্তরে সাফাই’ দিয়েছেন।

নিজের লেখা মন্তব্য প্রতিবেদনে মাহমুদুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমানের কঠোর সমালোচনা করেন। তার দাবি, বিএনপির সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর জাহেদ-উর রহমানের ‘চমকপ্রদ উত্থান’ ঘটেছে এবং তিনি এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

মাহমুদুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, জাহেদ-উর রহমান সরকারের কৌশল নির্ধারণ করছেন, নাকি রাজনৈতিক দল বিএনপির—নাকি উভয়েরই। তার ভাষায়, “তিনি এখন একের মধ্যে তিন—স্ট্র্যাটেজিক উপদেষ্টা, আবার সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত।”

তিনি জানান, ২০১৮ সালে দেশত্যাগের আগে তিনি জাহেদ-উর রহমানকে চিনতেন না। পরে জানতে পারেন, তিনি একজন চিকিৎসক হলেও ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতা ও টকশো বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিতি পান এবং শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচক হিসেবে আলোচনায় আসেন।

মাহমুদুর রহমানের দাবি, জাহেদ-উর রহমান তার বিভিন্ন বক্তব্যে প্রথম আলোকে দেশের একমাত্র ‘হেডমওয়ালা, সেক্যুলার ও লিবারেল’ সংবাদপত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকে তিনি গুরুত্বহীন বলে উপস্থাপন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহেদ-উর রহমান নিজেকে প্রথম আলোর একজন কলামিস্ট হিসেবে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন এবং অতীতে তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে বলেন, পরবর্তীতে মাহফুজ আনামের দুঃখপ্রকাশের মাধ্যমে সেই ‘অপরাধ’ মিটে গেছে।

মাহমুদুর রহমান এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, “মাহফুজ আনামের ক্ষমা চাওয়ার গল্পটি ভুয়া। তিনি শেখ হাসিনার কাছেই ক্ষমা চেয়েছেন, অন্য কারও কাছে নয়।”

মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, জাহেদ-উর রহমান তার কনটেন্টে আমার দেশকে তাচ্ছিল্য করেছেন। নাম উল্লেখ না করলেও একটি পত্রিকা সম্পর্কে করা মন্তব্য—“বন্ধ থাকার পর চালু হয়ে মনে করেছিল কী না কী হয়ে যাবে”—মূলত আমার দেশকেই উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার মতে, এ ধরনের মন্তব্য থেকে মনে হতে পারে যে আমার দেশ স্বেচ্ছায় দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এবং পুনরায় প্রকাশিত হওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু বাস্তবে, শেখ হাসিনার সরকারের সময় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে ‘নিপীড়ন’ চালানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে আমাদের পত্রিকার ওপর যে দমন–পীড়ন চালানো হয়েছে, সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।”

সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন মাহমুদুর রহমান। তার ভাষায়, “কোনো পত্রিকার প্রতি অন্ধ আনুগত্য এবং অন্যটির প্রতি বিদ্বেষ—এ ধরনের আচরণ আমাদের অতীতের ফ্যাসিবাদের কথাই মনে করিয়ে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের স্বার্থে প্রথম আলো ও আমার দেশের ভূমিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, এক-এগারো পর্বে এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার যেখানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, সেখানে আমার দেশ ছিল ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ ও ‘স্বৈরাচারের’ বিরুদ্ধে একক অবস্থানে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার পত্রিকার সঙ্গে সরকারের ‘সরাসরি দ্বন্দ্ব’ শুরু হয়।

তার ভাষায়, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং নিয়মিতভাবে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দমন–পীড়ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে তার পত্রিকা চাপে পড়ে।

প্রতিবেদনে মাহমুদুর রহমান বলেন, বিএনপির সভা–সমাবেশে খালেদা জিয়া তার পত্রিকা আমার দেশ হাতে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, যা তার মতে সরকারের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, যখন তার পত্রিকা সরকারবিরোধী অবস্থানে ছিল, তখন অন্য কিছু সংবাদমাধ্যম ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ‘সমন্বয় করে’ কাজ করেছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান সরকারের কিছু উপদেষ্টা অতীতে কী ভূমিকা পালন করেছেন, সে প্রশ্নও আলোচনায় আসা উচিত।

মাহমুদুর রহমানের এই মন্তব্য প্রতিবেদনে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা, রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং অতীতের ঘটনাবলিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এক-এগারো পর্ব, শেখ হাসিনার শাসনকাল এবং বিএনপির সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক—এসব বিষয় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে দেশের সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন রয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মাহমুদুর রহমান মাহফুজ আনাম জাহেদ উর রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250