ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে আটকের পর মুক্তি পাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসান ঢাকায় ফিরেছেন। গতকাল বুধবার (১৮ই ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তবে প্রায় ১ ঘণ্টা ইমিগ্রেশন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন মাহদী।
গণমাধ্যমকে মাহদী জানিয়েছেন, ‘ঢাকায় নিরাপদে পৌঁছেছি। তবে নামার পরে ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থেকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।’
এর আগে দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন মাহদী হাসান। পরে এক ভিডিও বার্তায় নিজের মুক্তির তথ্য জানান তিনি নিজেই।
ওই সময়ে ভিডিও বার্তায় মাহদী জানান, প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ কাস্টডিতে রাখার পর তাকে পুনরায় ইমিগ্রেশন দিয়ে ফ্লাইট ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এরপরেও নিজের সাথে কী হতে যাচ্ছে—এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
ওই ভিডিও বার্তায় মাহদী বলেন, আমার সাথে যেসব ঘটনা হয়েছে, সেটা আমি বাংলাদেশে এসে প্রেস কনফারেন্স করে বলব। আমাকে প্রায় ৪০ মিনিটের মতো পুলিশ কাস্টডিতে আটকে রাখা হয়েছিল। আমাকে খুবই বাজে অ্যাপ্রোচ করা হয়েছে। তারা আমাকে জেলে দিতে চেয়েছিল। আমি জানি না, আমি কি করেছি।
তিনি বলেন, আমি তাদের বলেছিলাম আমি কোনো অবৈধ কিছু করে থাকলে আমার দেশের সাথে যোগাযোগ করেন, অ্যাম্বাসির সাথে যোগোযোগ করেন। তারা কিছুই শুনে নাই। আমার সাথে খুবই বাজে আচরণ করেছে। আমার ১২টা ৪০-এ ফ্লাইট। এখন আমাকে রিলিজ করা হয়েছে, ইমিগ্রেশন দেওয়া হয়েছে। আমি এখন সেইফ আছি, তাদের সাথে কথা বলেছি।
ভিডিও বার্তায় মাহদী আরো বলেন, এখন তারা স্বীকার করছেন যে তারা নাকি ভুল মানুষকে ধরেছেন। কিন্তু তারা আমার সাথে খুবই বাজে অ্যাপ্রোচ করেছে। তাদের একজন আমাকে ফিজিক্যালি এবিউজ করছিল, বাজেভাবে টাচ করতেছিল। এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন আন্তর্জাতিক যাত্রীর সাথে এসব করা উচিত কি-না?
মাহদী বলেন, তারা আমাকে এপ্রোচ করেছিল যে, এসআই সন্তোষকে মেরেছি। এজন্য আমার জোর করে আমার ফোন আনলক করেছিল, চেক করেছিল। তারা কি ইন্টারন্যাশনাল পেসেঞ্জারের প্রাইভেসি চেক করতে পারে? ভিডিও বার্তায় মাহদী হাসান দেশবাসীকে তার আটকের খবরে দুশ্চিন্তা করায় ধন্যবাদ জানান।
মাহদী হাসানের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওসি ইমিগ্রেশন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে তার ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ইমিগ্রেশন শেষ করে তিনি চলে গেছেন।’
এদিকে গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হবিগঞ্জে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় এসেছিলেন মাহদী হাসান। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল। তবে এর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গ্রেপ্তারের এক দিন পরই হবিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান মাহদী।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন