বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, ১ নম্বর সতর্কতা *** ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে আজ ভোট *** এমপি আব্দুল আজিজের ‘অশ্লীল ভিডিও’ ভাইরাল, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ *** ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে লুটপাটের সংস্কৃতিতে ঢুকেছি: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ *** ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড *** বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানি প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান *** উখিয়ায় ২৬ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ২০০ মিটার ঘিরে রাখার পরামর্শ *** সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী *** মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা *** ১৫০ কিমি গতিতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

সরে যাচ্ছেন এনসিপির যুবশক্তির সদস্যসচিব, নেপথ্যে কী

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, ২১শে এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সদস্যসচিব জাহেদুল ইসলামের হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। দলীয় সূত্র, সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জাহেদুল ইসলাম গতকাল সোমবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে লেখেন, ‘জাতীয় যুবশক্তির সঙ্গে পথচলা এখানেই শেষ হলো। দেখা হবে রাজনীতির নতুন পরিচয়ে।’ তার এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।

জাহেদুল ইসলামের এই পোস্টের পর এনসিপি ও যুবশক্তির অন্তত চারজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে সুখবর ডটকম। তারা জানিয়েছেন, গত রোববার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ তিনটি দল-সংগঠনের ৪৪ জন নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখদের কয়েকজনও আছেন। এনসিপি তাদের ‘অ্যাকোমোডেট’ (স্থান করে দেওয়া) করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে জাহেদুলকে সরে যেতে হয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, নতুন করে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে অন্তত একজনকে যুবশক্তির সদস্যসচিব করার বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের আগ্রহ রয়েছে। ফলে বিদ্যমান কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে গিয়ে জাহেদুল ইসলামের ওপর পদ ছাড়ার চাপ তৈরি হয়। যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেননি।

গত বছরের মে মাসে যুবশক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর প্রথম কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান দন্ত চিকিৎসক জাহেদুল ইসলাম। প্রায় এক বছর বয়সী যুবশক্তির একটি সাধারণ সভা হয় সোমবার রাতে। এই সভার পরই জাহেদুল ফেসবুকে পোস্টটি দেন বলে জানান সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা।

এই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে রোববার এনসিপিতে যোগ দেওয়া একজন নেতাকে যুবশক্তির সদস্যসচিব করতে চাইছেন দলের নীতিনির্ধারকেরা। পদ থেকে সরে গিয়ে অন্য কোনো দায়িত্ব নিতে জাহেদুলকে নানাভাবে চাপও দেওয়া হয়েছে।’

তবে জাহেদুল ইসলাম নিজে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এটিকে ‘রেসপেক্টফুল ট্রানজিশন’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখসহ অনেকে দলে আসছেন। দলে একটা ট্রানজিশন হচ্ছে, অনেককে ‘অ্যাকোমোডেট’ করতে হবে। এর অংশ হিসেবেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।

এনসিপি বা দলটির কোনো সহযোগী সংগঠনে থাকছেন কি না, জানতে চাইলে জাহেদুল ইসলাম বললেন, ‘আসলে আই অ্যাম লুকিং ফর আ ব্রেক (আসলে আমি একটা বিরতি চাচ্ছি)।’

অন্যদিকে যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাহেদুল ইসলাম যুবশক্তি ছেড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাবেন। সে জন্যই তিনি যুবশক্তি ছাড়ছেন বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনাটির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক রদবদল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এটি দলীয় অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ।

ফেসবুকে নেটিজেন মাহমুদ রায়হান লিখেছেন, “নতুনদের জায়গা করে দিতে পুরোনোদের সরানো—বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। তবে বিষয়টা কীভাবে করা হচ্ছে, সেটাই আসল প্রশ্ন।” 

অন্যদিকে সাদিয়া তাসনিম নামের এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “যদি সত্যিই ‘রেসপেক্টফুল ট্রানজিশন’ হয়, তাহলে তা ইতিবাচক। কিন্তু চাপ প্রয়োগের অভিযোগ থাকলে সেটি উদ্বেগজনক।”

আরেকজন ব্যবহারকারী, আরিফুল ইসলাম হৃদয়, লেখেন, “জাহেদুল ইসলামের মতো একজন প্রতিষ্ঠাতা পর্যায়ের নেতাকে যদি এভাবে সরে যেতে হয়, তাহলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।”

তবে বিপরীত মতও রয়েছে। নেটিজেন রাশেদ মাহমুদ লিখেছেন, “রাজনীতি হলো পরিবর্তনের খেলা। নতুন মুখ আসবে, পুরোনোরা জায়গা ছাড়বে—এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন জোট বা আন্দোলনভিত্তিক দলগুলোতে দ্রুত সম্প্রসারণের সময় এ ধরনের সমন্বয় সংকট দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন বিভিন্ন পটভূমি থেকে নেতারা একত্রিত হন, তখন নেতৃত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

এনসিপির ক্ষেত্রেও সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। একদিকে নতুন শক্তিকে দলে টেনে আনার কৌশল, অন্যদিকে পুরোনো নেতৃত্বকে সন্তুষ্ট রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন দলের জন্য বড় পরীক্ষা।

সব মিলিয়ে, জাহেদুল ইসলামের সরে দাঁড়ানো শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি এনসিপির ভেতরে চলমান রূপান্তরের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে এই রদবদল দলটির সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক অবস্থানে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জাহেদুল ইসলাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250