ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার সামনে দুই দিনও টিকতে পারল না ইংল্যান্ড। অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে রেকর্ড-বেগে হারের পর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট সমাজ যেন খুঁজে পেল নতুন উৎসবের উপলক্ষ। ইংল্যান্ডের প্রতিটি ভুল, প্রতিটি ভাঙন নিয়ে নির্মম ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ চলছে দেশটির সংবাদমাধ্যমে।
কথায় আছে, অস্ট্রেলিয়ানেরা হারলে যেমন চট করে মানতে চায় না, জিতলেও তারা আরো খারাপ ‘উইনার’। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দৈনিক দ্য অস্ট্রেলিয়ান ১৮৮২ সালের সেই বিখ্যাত ‘অ্যাশেজের জন্ম’-এর ব্যঙ্গরচনার আদলে ছেপেছে এক ভয়ানক ব্যঙ্গাত্মক ‘শোকবার্তা’।
এতে ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক খেলার ধরনকে ‘বাজবল’ বলা হয়। আর সেই বাজবলের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে একটি রম্যরচনা লিখেছে পত্রিকাটি।
পত্রিকাটি লিখেছে, ‘স্নেহপূর্ণ স্মরণে বাজবল, যা ২২শে নভেম্বর ২০২৫-এ পার্থ স্টেডিয়ামে পরলোক গমন করেছে। তার অসংখ্য বন্ধু, স্বজন এবং তৃতীয় দিনের টিকিট করা হতভাগারা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে শান্তিতে নিদ্রা যাও। বিশেষ দ্রষ্টব্য—শব দাহ করা হবে, আর ছাইভস্ম প্রথম বিমানে হিথ্রো পাঠানো হবে।’
এতেই থামেনি তারা। আরো লিখেছে, ‘ইংল্যান্ড যাবে কোথায় এখন? বাজবল নিজের অস্ত্রেই নিজে ধ্বংস। যেভাবে ইংল্যান্ড আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিল, সেটাই তো যুগ যুগ ধরে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। বাজবল আসলে ইংল্যান্ডের নতুন আগ্রাসী যুগের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু প্রথম টেস্ট শেষ হলো অ্যাশেজ ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে।’
ট্রাভিস হেডের রুদ্ধশ্বাস চতুর্থ ইনিংসের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়া যখন হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতেছে, তখন সাংবাদিক উইল সুইন্টন লিখেছেন, ‘হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা। ঘুম নেই। বাজবল আসলে এক ধরনের বোকা বল—পরিস্থিতি বোঝে না, পিচ বোঝে না। যেন সেই লোকটা, যে ভাবে চিৎকার করলেই বড় কিছু হয়ে যায়। আজকের শিক্ষা—ট্রাভবল ১, বোজোবল ০।’
দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান প্রথম পাতায় হেডের স্ত্রী ও সন্তানের ছবিসহ শিরোনাম ছেপেছে, ‘ইংল্যান্ডের ড্যাডি।’ অ্যাডিলেডের দ্য অ্যাডভারটাইজার তো আনন্দে নিজেই নাম বদলে হয়েছে, ‘দ্য ট্রাভারটাইজার’! তাদের দাবি, অ্যাডিলেড ওভালে ব্র্যাডম্যান, লেহম্যান বা গিলেস্পির মতোই ট্রাভিস হেডের মূর্তি দাঁড় করাতে হবে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ড্যারেন লেহম্যান বলেছেন, ‘হেড যা করছে, তা আমার বা গিলেস্পির ক্যারিয়ারের চেয়েও বড় হবে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে আমি গর্বিত।’ গ্রেগ ব্লেউইট তো আরও এগিয়ে ‘সব সম্মান রেখে বলছি, স্টিভ স্মিথ নয়—অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ টেস্ট অধিনায়ক হেড।’
অ্যাডভারটাইজারের সম্পাদকীয়তে লেখা, ‘দলের ভেতর অনুপ্রেরণা জাগানোর ক্ষমতা ও টিমমেটদের উজ্জীবিত রাখার দক্ষতা—হেডই প্রকৃত উত্তরসূরি।’
এদিকে মাত্র ৮৪৭ বলে শেষ হওয়া এই ম্যাচ, ১৮৮৮ সালের পর অ্যাশেজের দ্রুততম টেস্ট। এতে প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড লোকসান গুনতে হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। এমনিতেই প্রতিষ্ঠানটি টানা দুই বছর ধরে ঘাটতিতে। এবার আরও বড় ধাক্কা।
সংবাদমাধ্যম দ্য এজ লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ার ভক্ত অ্যালেক্স আরল জার্মানি থেকে উড়ে এসেছিলেন বাবার সঙ্গে টেস্টের তৃতীয় দিন দেখবেন বলে। কিন্তু খেলা শেষ হয়ে গেছে আগের দিনই।
অ্যালেক্স আরল বলেন, স্টেডিয়ামের পাঁচ মিনিট দূরের আইরিশ পাব থেকে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের শেষ ওভার দেখলাম। জানালা দিয়ে স্টেডিয়াম দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু মাঠে এক বলও দেখলাম না!’ ব্রিসবেনে আগামী ৪ঠা ডিসেম্বর দিবা-রাত্রির টেস্টে ইংলিশদের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন