ছবি: সংগৃহীত
মোজাম্মেল হোসেন
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ভারত-বিরোধী জিগিরের মধ্যে ক্রমে বিলীন হয়ে যাবে। আইনি মামলাটির প্রকৃত অগ্রগতি ও নিষ্পত্তি না হয়ে তা শেষ পর্যন্ত হারিয়ে যাবে। অভিজ্ঞতা থেকে এই আশঙ্কা করছি।
ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব (১৫ মাসে পঞ্চমবার) এবং পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় এটা আরো পরিষ্কার। আশঙ্কা সত্য না হলে, আইনি বিচার হলে, খুশি হবো।
ওসমান হাদিরা যা করছে তা রাজনীতি নয়। পাকিস্তান আমলে ২৫ বছর বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন করেছে এবং শেষে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে।
আমরা কোনোদিন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও গণহত্যাকারী বর্বর হানাদার বাহিনীকে 'শাউয়া-মাউয়া... খানকির পুত' বলে গালি দেই নাই। এসব রাজনৈতিক ভাষা নয়। পতিতালয়ের ভাষা।
আমরা হানাদারদের রাজনৈতিক ভাষায় চিত্রিত করেছি। প্রতিবাদ করেছি, বিরোধিতা করেছি। ওসমান হাদিদের ভাষা-সন্ত্রাসের মতো তারা যা করছে, তা রাজনৈতিক সন্ত্রাস। রাজনীতি নয়। গভীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি এদেরকে পেছন থেকে পরিচালিত করে। এরা সবটা বোঝে না। এরা সেই অপরাজনীতির সম্মুখবর্তী সন্ত্রাসী সৈনিক। সস্তায় নিজেদের জীবন বিপন্ন করে।
ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। হামলার বিচার ও হামলাকারীর শাস্তি দাবি করি। একটি তরুণ প্রাণ বেঁচে উঠুক। গুরুতর আহত হাদি সুস্থ হলেও সহসা সক্রিয় হতে পারবেন না।
তবে নেপথ্যের রাজনৈতিক শক্তি তাকে শান্তি দেবে না, তার নাম নানাভাবে রাজনীতিতে ব্যবহার করবে। মৃত্যু হলে তাদের কিছু আসে যায় না। তারা দু'দিনে ভুলে গিয়ে নতুন সন্ত্রাসী সৈনিকদের ব্যবহার করতে থাকবে।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান, আপনারা নিজেদের বিদ্যাবুদ্ধি, শিক্ষা ও বিবেচনাবোধ কাজে লাগান। জানুন, বুঝুন ও রাজনীতিতে অবদান রাখুন। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস, স্বাধীনতা-বিরোধিতা, মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধিতা ও 'শাউয়া-মাউয়া' প্রত্যাখ্যান করুন।
লেখক: বিশিষ্ট সাংবাদিক।
খবরটি শেয়ার করুন