ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়ার ঘটনার পর বিবৃতি দিয়েছে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই বইটি নিষিদ্ধ নয়। আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো বইয়ের প্রকাশনা বা বিক্রি বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই বইটির বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা সংস্থাটির বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে একদল লোক আটকে রাখে ও হয়রানি করে বলেও অভিযোগ করে ইউপিএল। ওই দুই কর্মীর নাম আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীর।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টির মীমাংসা হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে বিক্রয়কেন্দ্রটি খোলা রয়েছে।
ইউপিএল এক বিবৃতিতে জানায়, ওইদিন বিকেলে দুজন ব্যক্তি তাদের বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্রে এসে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’বইটি কিনতে চান। কর্মীরা বইটি বের করে দিলে তারা এর বিক্রি নিয়ে আপত্তি তোলেন। তারা বলেন, বইটি নিষিদ্ধ।
একপর্যায়ে তারা আরও লোকজন জড়ো করে বিক্রয়কেন্দ্রের শাটার নামিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকেও তুলে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছে ইউপিএল।
ইউপিএল বলেছে, পরে ওই দুই কর্মীকে ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সুখবর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শুভ বারৈ বলেন, বিষয়টি দুই পক্ষ মিলে সমাধান করা হয়েছে। বিক্রয়কেন্দ্রটি এখন খোলা আছে।
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমানের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিবৃতিতে ইউপিএল বলেছে, তারা অভিযোগকারীদের জানিয়েছিল যে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়।
প্রকাশক বলেছে, ইউপিএল তার প্রকাশিত প্রতিটি বইকে ধারণ করে। কোনো বই নিষিদ্ধ করতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবাইকে অবগত করতে হয় এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়।
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাদের জানা নেই বলেও জানিয়েছে ইউপিএল। এ বিষয়ে সরকার বা আদালত কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তারা তা মেনে চলবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে ইউপিএল আরও বলেছে, বই প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করে। পাশাপাশি প্রকাশিত বইয়ের বিষয়ে পাঠক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে কোনো বইয়ের প্রকাশনা বন্ধ করতে চাপ বা হুমকি দেওয়ার বিরোধিতা করে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউপিএল বলেছে, অতীতেও বিভিন্ন বই প্রকাশের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রকাশক হিসেবে তারা কোনো বইয়ের প্রকাশনা বন্ধ করার ক্ষেত্রে চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে চায় না।
ইউপিএল বিবৃতিতে ঘটনাটিকে জাতির জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বই প্রকাশ ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইনবহির্ভূত চাপ বা হুমকি দেশের সামাজিক ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রকাশকের ভাষ্য, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বই। বাংলাদেশের সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট বুঝতে বইটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করে ইউপিএল।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী বইটি নিষিদ্ধ করলে তারা সে সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। তবে আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো বইয়ের প্রকাশনা বা বিক্রি বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে প্রকাশনা সংস্থাটি।
একাডেমিক প্রকাশনার স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ রক্ষায় ইউপিএল লেখক, পাঠক, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক, প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন