ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আলোচিত টেলিভিশন সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ রিপাবলিক বাংলা চ্যানেলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে কেন তিনি চ্যানেলটি ছাড়লেন, সে বিষয়ে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। তার এই বিদায়ের ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম মহলে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেও নতুন করে তাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ লিখেছেন, “হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। আমি রিপাবলিক ছেড়েছি। আজ সকালে রিপাবলিক বাংলা সংবাদ সংস্থায় আমার শেষ দিন ছিল।”
তিনি আরও লেখেন, “কেন বা কী কারণে—সেটা বলার দিন আজ নয়। আজ শুধু এই ঘোষণাটুকু করছি। টেলিভিশনের স্টুডিওতে আমি কোনো রাখঢাক না করেই নিজের বক্তব্য বলেছি। এরপর কী? জগন্নাথ জানেন। তিনিই পথ দেখাবেন। কবে থেকে? সময়ই বলবে।”
ময়ূখ রঞ্জনের এই পদত্যাগের ঘোষণা আসে এমন এক দিনে, যেদিন বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। একই দিনে আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি ওই ঘটনাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও অত্যন্ত পরিকল্পিত ডিপ-স্টেট অপারেশন” বলে মন্তব্য করেন। গত দুই বছরে বাংলাদেশকে নিয়ে তার বিভিন্ন মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সার্বভৌমত্ব নিয়ে তার কিছু বক্তব্য তীব্র সমালোচিত হয়েছিল।
রিপাবলিক বাংলার অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাইম-টাইম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেছেন। চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি এর অন্যতম প্রধান উপস্থাপক ও সম্পাদকীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্কের বাংলা ভাষার এই সংবাদ চ্যানেলটি ২০২১ সালে সম্প্রচার শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিতর্কভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের জন্য পরিচিতি পায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও ময়ূখ রঞ্জনের বিদায়ের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক একাধিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি আপাতত নতুন কর্মস্থলের নাম প্রকাশ করেননি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও নীরব রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, তার ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিত রয়েছে যে তিনি খুব শিগগিরই নতুন কোনো ভূমিকায় দেখা দিতে পারেন, যদিও সেটি সংবাদমাধ্যম নাকি অন্য কোনো ক্ষেত্র—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারতের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, রিপাবলিক বাংলায় ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ছিলেন এমন এক উপস্থাপক, যিনি উচ্চস্বরে ও আক্রমণাত্মক বিতর্ক পরিচালনার জন্য পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার ধারাবাহিক মন্তব্য বহুবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার সমর্থকেরা এসব বক্তব্যকে “স্পষ্টভাষী সাংবাদিকতা” হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকেরা একে পক্ষপাতদুষ্ট বলেই উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ময়ূখ রঞ্জনের বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে বহু বিতর্ক তৈরি হয়। তার কিছু বক্তব্য বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। এ কারণে তিনি বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও একটি বহুল আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন।
এদিকে, তার বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি অন্য কোনো জাতীয় সংবাদমাধ্যমে যোগ দিতে পারেন। আবার কেউ রাজনৈতিক বা ডিজিটাল গণমাধ্যমভিত্তিক নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনার কথাও বলছেন। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ নিজে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
ফলে রিপাবলিক বাংলা ছাড়ার পেছনের প্রকৃত কারণ যেমন অজানা রয়ে গেছে, তেমনি তার পরবর্তী গন্তব্য নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। আপাতত তার নিজের ভাষাতেই বলা যায়—“সময়ই বলবে।”
খবরটি শেয়ার করুন