বুধবার, ২১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বন্ধ হতে পারে দেশে ৬ কোটি বাটন ফোন *** প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিদায় *** আলজেরিয়া সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির *** এল ক্লাসিকোর আগে চোটের মিছিলে ওলমোও, দুশ্চিন্তা বাড়ল বার্সার *** সাজেকে কাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ *** চট্টগ্রামে হিন্দু তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ *** ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে ফ্লাইট শুরু করবে বিমান *** ফ্রান্সের আন্দোলনকারীদের স্লোগান যে কারণে ‘বিসমিল্লাহ’ *** রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পিঁয়াজু, জুসসহ খাবারের ব্যবসা করতেও নিবন্ধন নিতে হবে, আপত্তি ব্যবসায়ীদের *** আবার চালু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি, বাংলাদেশিরা কী আবেদন করতে পারবেন

শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, ২৫শে আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

‘শেখ হাসিনার আত্মীয়’ হিসেবে উল্লেখ করায় এক সাংবাদিককে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে আরও ‘পেশাদার’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ে বসেছেন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, শেখ হাসিনার আত্মীয় হিসেবে নয়।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক বলেন, তাকে দেশে ফেরত পেতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফেরত আনার বিষয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে গিয়ে ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘কবে নাগাদ ফেরত পাচ্ছেন আপনার আত্মীয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে?’

জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “আমি আগেও বলেছিলাম, আপনার প্রশ্নটা আরও প্রফেশনাল হবে। আমি এখানে বসা তথ্যমন্ত্রী হিসেবে। তার আত্মীয় হিসেবে নয়। আশা করি আপনি আগামীতে প্রফেশনাল ওয়েতে প্রশ্ন করবেন।”

এরপর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ওই সাংবাদিকের উদ্দেশে বলেন, “আপনি তো উনার বহুবছরের একটা...উনি কার সাথে ছিলেন, কী করেছেন, খুবই ক্লিয়ারলি এক্সপোজড। ইজন্ট ইট?”

আন্দালিভ রহমান পার্থের সঙ্গে শেখ হাসিনার পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু ছিলেন এইচ এম এরশাদ সরকারের মন্ত্রী। পরে জাতীয় পার্টি বিভক্ত হলে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নামে একটি অংশের নেতৃত্ব দেন। ২০০৮ সালে মঞ্জুর মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে আসেন আন্দালিভ রহমান পার্থ।

পার্থের মা রেবা রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাইজি এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বোন। পার্থ বিয়ে করেছেন শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিনের বড় মেয়ে শেখ সায়রা রহমানকে। সে হিসাবে পারিবারিক সম্পর্কে শেখ হাসিনা তার ফুফু হন। তবে রাজনৈতিকভাবে পার্থ দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বিরোধী অবস্থানে ছিলেন। জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটেও ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। ভারত সরকার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করছে, সে বিষয়ে নিজের জানা তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। আমরা জানি এবং আমাদের সরকারের তরফ থেকে যেটা আমরা জানতে পেরেছি যে, যে কন্ডিশনগুলো দেওয়া হয়েছে, এবং আমি যেটা জানি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় লিখেছে, এ ব্যাপারটা নাকি উনারা এখন আদালতের মাধ্যমে করবে।”

এর ব্যাখ্যায় পার্থ বলেন, “সেক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয়, উনি ওখানে গিয়েছিলেন একভাবে, বাট ওই সরকার এখন পলিটিক্যালি ওই দায়ভার নিতে চাচ্ছেন না বলে এটা এখন জুডিশিয়ারির উপরে দিয়ে দিচ্ছে। আমার মনে হয় এই সংবাদটা উনার জন্য খুব একটা সুখকর হবে না।”

শেখ হাসিনাকে এককভাবে ফেরত আনার বিষয়টিকে সরকারের অবস্থান হিসেবে না দেখিয়ে বিদেশে অবস্থানরত মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন তথ্যমন্ত্রী। তার ভাষায়, “আমাদের তো দাবি একটাই; সেটা হলো, শুধু উনি কেন, প্রত্যেককেই আমরা ফেরত চাই। যাদের নামে মামলা, যাদের নামে সব কিছু। বাংলাদেশের জায়গা থেকে আমরা চাই, এই জুলাই আন্দোলন থেকে শুরু করে এর আগেও যে ঘটনাগুলো, সেগুলোর সঠিক বিচার হোক।”

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৬ আগস্ট ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যম জানায়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালত নিতে পারেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নিষ্পত্তির বদলে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা কোনো ব্যবস্থার বিষয় নয়, বরং মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছরে সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “গণতন্ত্রে বিশ্বাস করাটা মানসিক একটা ব্যাপার, এটা কোনো সিস্টেমের ব্যাপার না। এটা মানসিকতার ব্যাপার। আমরা ১৭ বছর যেটা দেখেছি, সেই মানসিকতার ব্যাপার ছিল না। সমালোচনা শোনার মানসিকতা ছিল না এবং সে কারণেই হয়ত মনে করিয়ে দেওয়া হত, ‘টিভি চ্যানেল আমরা দিয়েছি, আমাদের পক্ষেই কথা বলতে হবে।’”

বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের নির্দেশনা বা মানসিকতার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, “গত ছয় মাসে আমাদের তরফ থেকে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই ধরনের কোনো ইন্সট্রাকশন বা কোনো মানসিকতার কোনো বহিঃপ্রকাশ আমি শিওর আপনারা দেখতে পাননি।”

তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য তার দায়িত্ব নেওয়ার পর গণমাধ্যম নিয়ে দেওয়া আগের বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে তিনি বলেছিলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় যেন কোনোভাবেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জায়গায় পরিণত না হয়। তিনি সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে জুলাইয়ের আন্দোলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এর আগে ২২ আগস্ট দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পার্থ বলেছিলেন, বর্তমান সরকার মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে। তবে স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আন্দালিভ রহমান পার্থ দায়িত্ব পান গত শুক্রবার। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদলের অংশ হিসেবে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা এবং সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন পার্থ। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো, তার সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—তিনটি বিষয়েই প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। তবে ‘শেখ হাসিনার আত্মীয়’ হিসেবে প্রশ্ন করার প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—বর্তমান দায়িত্বে তিনি নিজেকে পারিবারিক পরিচয়ের বদলে রাষ্ট্রের তথ্যমন্ত্রী হিসেবেই দেখতে চান।

আন্দালিভ রহমান পার্থ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250