রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক মোল্লা, যিনি নুরা পাগলা নামেও পরিচিত, তার কবর অবমাননা ও মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার বলেছে, ‘এই অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজটি আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের আইন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।’
আজ শুক্রবার (৫ই সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর ‘ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে একদল ব্যক্তি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুল হকের দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। একপর্যায়ে ২৩শে আগস্ট মারা যাওয়া নুরুল হকের লাশ কবর থেকে তুলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডের অদূরে পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি রাতে গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের বর্বরতা কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং প্রতিটি মানুষের জীবনের পবিত্রতা, জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এ জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
দেশের নাগরিকদের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তুলুন।’
খবরটি শেয়ার করুন