শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তারেক রহমান *** পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ *** এপস্টেইন-যোগ, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আলোচিত সেই ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধানের পদত্যাগ *** বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র *** ভোটের ফলাফল ‘পাল্টে দেওয়ার’ অভিযোগ ১১ দলীয় ঐক্যের *** নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়, যা বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম *** ভোটের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তৃণমূলে স্বস্তি *** ইসির গড়মিলে ভোট কাস্টিং ২৪৪%, কয়েকটি আসনে মোট ভোটারের কয়েক গুণ বেশি ভোট কাস্ট *** নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আলোচনা-সমালোচনায় শেখ সেলিম *** দেশের নেতৃত্বে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উত্তরসূরি

পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাব অনুযায়ী আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ‘পহেলা ফাল্গুন’। অন্যদিকে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের পাতার হিসাবে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ তথা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আজ বিশ্বজুড়ে কেবল ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ উদযাপিত হলেও ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ভ্যালেনটাইনস ডে’ ও ‘বসন্তের প্রথম দিন ‘পহেলা ফাল্গুন’, এই দুই উৎসবকে ঘিরে জোড়া উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই বসন্তবরণে চলবে ধুম আয়োজন। শীত চলে যাবে রিক্তহস্তে, আর বসন্ত আসবে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে শীতের জরাজীর্ণতা। একই সঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা-ভাইবোন, প্রিয় বন্ধুরা মিলিত হবে ভালোবাসার বন্ধনে।

প্রকৃতিতে বসন্ত আর ভালোবাসা যেন একে-অন্যের পরিপূরক। পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের রঙে মেতে ওঠে তরুণ হৃদয়; নতুন করে প্রাণ পায় প্রবীণরা। বসন্তে শুধু প্রকৃতিই নয়, হৃদয়ও রঙিন হয়ে ওঠে। তাই তো বসন্ত আমাদের কাছে ‘প্রেমের ঋতু’। এ উৎসবটির একটি ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে। ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘বসন্ত উৎসব’। কী নেই বসন্তের! আছে রং, রূপ, রস ও লাবণ্য। আছে মাতাল দখিনা সমীরণ। ঋতুরাজের আগমনে খুলে গেছে দখিনা দুয়ার। মানব-মানবীর চিরন্তন ভালোবাসা উড়ছে রঙিন প্রজাপতি হয়ে। ফুলে ফুলে আছে মৌমাছির গুঞ্জন। নতুন প্রাণের পত্রপল্লবে জেগে উঠেছে বৃক্ষ-লতা-গুল্ম। নদীর কিনার থেকে পথে প্রান্তর, কুঞ্জবন, অরণ্য-পর্বতে ডেকেছে নবযৌবনের বান। প্রকৃতির এ রূপতরঙ্গ দেখেই কবিগুরু লিখেছিলেন, ‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে।’

অন্যদিকে পশ্চিমের ভ্যালেনটাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসের ধারণা এসে মিলেছে আমাদের বসন্তে। এই দিনটিকে ঘিরে মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলবে শুভেচ্ছা বিনিময়। বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে দিনভর চলবে আনন্দ। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আয়োজন থাকবে। হলুদ শাড়ি, হাতে গাঁদাফুল, তরুণীরা ঘর থেকে বের হবে। বন্ধু-বান্ধবী ও প্রিয়জনের সঙ্গে মাতবে আড্ডায়।

ভালোবাসার দিনে প্রিয়জনদের আরও কাছে পাওয়ার ক্ষণ হয়ে এসেছে এবারের বসন্ত। বসন্ত ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তরুণের পোশাকে, মননে, সংগীতে। বাঁধনহারা মন এ সময় গেয়ে উঠিছে, ‘মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে।’ তবে বসন্ত শুধু প্রেমের ঋতু নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির দ্রোহের ইতিহাসও। এমনই এক বসন্তে বাঙালি ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল। এবারের বসন্ত নতুন জীবনীশক্তিতে প্রকৃতি ও প্রাণকে ভরিয়ে তুলুক। বসন্তের দোলা লাগুক বনে, মনে। উল্লসিত মন গেয়ে উঠুক, ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে।’

যেভাবে এলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিষ্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে ও তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসাবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

জে.এস/

ভালোবাসা দিবস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250