ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাকে জেলহাজতে আটক রাখতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া আবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামি মাকছুদাকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন আবেদন মঞ্জুর করেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, আসামিকে বিস্তারিত ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আজ আসামিকে আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হলেও শুনানিতে হাজির করা করা হয়নি। তার পক্ষে কোন আইনজীবী বা আবেদনও ছিল না আজ।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেই রাতেই মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ (৪০) বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদাকে আদালতের মাধ্যমে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওবায়দুর রহমান এখনো পলাতক।
আজ রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে আদালতে পাঠানো প্রসঙ্গে পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী মরিয়ম ২১ সেপ্টেম্বর বেলা তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে যেকোনো সময় ঘরের একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মাকছুদা জানান, আসামি ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় ১৭ জুন গাজী নজরুল ও মরিয়মের বিয়ে হয়।
গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
এরপর ২২ জুলাই জামায়াত গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
খবরটি শেয়ার করুন