সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না জামায়াতের এমপিরা *** ‘ভারতকে বুঝতে হবে, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর নেই’ *** আসিফ নজরুল কী করেছেন, নিজেই জানালেন *** বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান, সিইসিকে চিঠি *** ইকুয়েডরের বিষধর ব্যাঙ যেভাবে এল রাশিয়ার রাজনীতিতে *** নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী বক্তব্য দিলেন প্রধান উপদেষ্টা *** সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সালাহউদ্দিন বললেন, ‘এতগুলো হয়–এর পরে, হলে হতে পারে’ *** রাষ্ট্রপতি পদে সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরির খোঁজে বিএনপি *** ‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করলেও ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না’ *** এবার পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দেশ ছেড়েছেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল

ইকুয়েডরের বিষধর ব্যাঙ যেভাবে এল রাশিয়ার রাজনীতিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৫:২৫ অপরাহ্ন, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য এবং এর ইউরোপীয় মিত্রদের দাবি, রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে ডার্ট ব্যাঙের প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহার করে হত্যা করা হয়েছে। নাভালনির মরদেহ থেকে নেওয়া নমুনায় এপিব্যাটিডিনের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, যা কেবল দক্ষিণ আমেরিকার কিছু বিষধর প্রজাতির ব্যাঙের শরীরেই পাওয়া যায়।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার কারাগারে সম্ভবত এই বিষের কারণেই নাভালনির মৃত্যু হয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর দাবি, এই মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করার ‘ক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ’ রাশিয়ার হাতে ছিল। তবে রুশ বার্তা সংস্থা তাস বলছে, এই দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা বলে নাকচ করেছে ক্রেমলিন।

টক্সিকোলজি বিশেষজ্ঞ জিল জনসন বিবিসিকে জানান, এপিব্যাডিটিন হলো একটি প্রাকৃতিক নিউরোটক্সিন, যা বিষধর ডার্ট ব্যাঙের ত্বক থেকে নেওয়া হয়। দক্ষিণ আমারিকার দেশ ইকুয়েডরে এই ব্যাঙের আবাস। পাশাপাশি এটি ল্যাবরেটরিতেও তৈরি করা যায়।

পশ্চিমা দেশগুলো তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্দি অবস্থায় রাখা ডার্ট ব্যাঙ এই বিষ তৈরি করে না। আর এটি প্রাকৃতিকভাবে রাশিয়াতেও পাওয়া যায় না। এপিব্যাডিটিন নিঃসৃত করে, এমন পরিচিত প্রজাতির মধ্যে আছে অ্যান্থনি’স পয়জন অ্যারো ফ্রগ ও ফ্যান্টাসমাল পয়জন ফ্রগ। এসব ব্যাঙের ত্বকে এই বিষ নিঃসৃত হয়।

ব্যথানাশক এবং ফুসফুসের চিকিৎসায় এই বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিন্তু তীব্র বিষক্রিয়ার কারণে চিকিৎসাক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয় না। জনসন জানান, এই শক্তিশালী রাসায়নিক যৌগ স্নায়ুতন্ত্রের নিকোটিনিক রিসেপ্টরগুলোর ওপর কাজ করে।

এই বিষ প্রয়োগ করা হলে প্রাণীর দেহে পেশি সংকোচন, পক্ষাঘাত, আকস্মিক সংকোচন, ধীর হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হতে পারে। লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল টক্সিকোলজির অধ্যাপক অ্যালাস্টেয়ার হে বিবিসিকে বলেন, এর প্রভাবে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো ব্যক্তির শরীরে বিষ প্রবেশ করলে তিনি শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। কারো রক্তে এই বিষের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে এটি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এপিবাটিডিনের বিষক্রিয়া কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ একসাথে দেওয়ার মাধ্যমে আরও বাড়ানো যেতে পারে। গবেষকরা এই ধরনের সংমিশ্রণ নিয়ে গবেষণাও করেছেন। এপিব্যাটিডিন অত্যন্ত বিরল বিষ। এটি একটি মাত্র অঞ্চলে খুব অল্পমাত্রায় পাওয়া যায়।

জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মিত্র দেশগুলোর উল্লেখ করা ডার্ট ব্যাঙটি ছিল অ্যান্থনি’স পয়জন অ্যারো ফ্রগ, যা ইকুয়েডর এবং পেরুর স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি।

এই প্রজাতির ব্যাঙগুলো অ্যালকালয়েড (এক ধরনের জৈব যৌগ) থেকে এপিবাটিডিন উৎপন্ন করে এবং ত্বকে জমা রাখে। এর জন্য বিশেষ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। যদি ব্যাঙের খাবারে পরিবর্তন আসে, তবে ত্বক থেকে এপিব্যাটিডিনের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। জনসন বলেন, ইকুয়েডর ও পেরুর বাইরে প্রকৃতিতে এই বিষধর ব্যাঙ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

তিনি বলেন, ‘মানুষকে এভাবে বিষপ্রয়োগ করার ঘটনা বিরল। আমি যতটুকু জানি, এপিব্যাটিডিন বিষক্রিয়ার কিছু ঘটনা পরীক্ষাগারে ঘটেছিল এবং তা প্রাণঘাতী ছিল না।’ গত শনিবার (১৪ই ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের মিত্ররা বলেছে, ইউরোপীয় ল্যাবরেটরিগুলো নিশ্চিত করেছে যে নাভালনি বিরল এক বিষের প্রভাবে মারা গিয়েছিলেন।

মস্কো আগে দাবি করেছে, নাভালনি স্বাভাবিক কারণেই মারা গিয়েছিলেন। তবে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন, তার স্বামীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। লন্ডনের রুশ দূতাবাস বলেছে, নাভালনির মৃত্যুর সঙ্গে মস্কোর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা যুক্তরাজ্য ও মিত্রদের দাবিকে ‘পশ্চিমাদের বোকামি মূর্খতা’ এবং ‘মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা’ বলে উল্লেখ করেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ক্রেমলিন মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, সমস্ত আলোচনা ও বিবৃতি হল একটি মিথ্যা প্রচারণা, যার উদ্দেশ্য পশ্চিমাদের জরুরি সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানো। নাভালনি রাশিয়ার বিরোধী শিবিরে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠস্বর ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ৪৭ বছর বয়সে তিনি কারাগারে মারা যান।

অ্যালেক্সি নাভালনি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250