প্রতীকী ছবি
নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি হঠাৎ করেই এমন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন, যার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। এই দম্পতি গত বছরের ১৯শে এপ্রিল বিয়ে করেন।
এই যুগল সরকারের নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বিয়ের শপথবাক্য পাঠ করেন এবং বিয়ের নিবন্ধন করেন। তাহলে কেন তাদের বিয়ে বাতিল হলো, তা–ও আবার আদালতের নির্দেশে। তথ্যসূত্র: আরব নিউজ।
বিয়ে নিয়ে এই বিভ্রাটের কারণ বর-কনে নন, বরং গন্ডগোল পাকিয়েছেন বিয়ে পরিচালনাকারী কর্মকর্তা।
৫ই জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের একটি আদালত ওই ডাচ দম্পতির বিয়ে বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, ওই বিয়েতে বর-কনের জন্য বিয়ে পরিচালনাকারী যে শপথবাক্য তৈরি করেছিলেন, সেটি আদতে তৈরি করে দিয়েছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি।
আদালত বলেছেন, চ্যাটজিপিটির লিখে দেওয়া ওই শপথবাক্যে বিয়ের আইনকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। গোপনীয়তার বিধি অনুসারে আদালত থেকে ওই দম্পতির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ওই দম্পতির বিয়েতে যে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়, সেখানে লেখা ছিল, ‘আপনারা কি একে অপরকে সহায়তা অব্যাহত রাখবেন, খামাখা ঠাট্টা করবেন এবং জীবনের কঠিন মুহূর্তেও একে অপরকে আলিঙ্গন করবেন?’
জবাবে যুগল হাতে হাত রেখে বলেন, ‘আমরা করব।’ এরপর বিয়ে পরিচালনাকারী বলেন, ‘আপনারা দুজন শুধু স্বামী-স্ত্রী নন, বরং এসবের ওপরে, একটি পাগল দম্পতি।’
কিন্তু পরে বিচারক পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, বিয়ের সময় বর-কনেকে যে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়েছিল, সেখানে বিয়ের দায়দায়িত্ব পালন করার নিয়ে যে শপথ করার কথা তা লেখা নেই, তারা সঠিক শব্দ উচ্চারণ করেননি। নেদারল্যান্ডসের আইনে বিয়ের শপথবাক্যে দায়দায়িত্বের বিষয়টি সঠিকভাবে উল্লেখ থাকা এবং সেটি পালনে অঙ্গীকার করা বাধ্যতামূলক।
ওই দম্পতির বিয়ের শপথবাক্য এই আইনগত শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এ কারণে আদালত তাদের বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ নয় বলে ঘোষণা করেন।
আদালত জ্ভোলে সিটি নিবন্ধন কার্যালয় থেকে ওই যুগলের বিয়ে নিবন্ধনের রেকর্ডও মুছে ফেলতে বলেন।
এ দম্পতি এখন আইন মেনে সঠিক শব্দে শপথবাক্য উচ্চারণ করে আবার বিয়ে করেছেন বা করবেন কি না, তা জানা যায়নি।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন