ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হওয়ার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সমালোচনা করার ফলে মানুষ তাকে মাথায় তুলে নাচত বলে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড পপুলার একটা মানুষ ছিলাম। আর এখন সারা দিন কাজ করি। কালকে রাতে দুবাই থেকে মিটিং করে এসে রাত আড়াইটা পর্যন্ত কাজ করেছি। সকালে উঠে সাড়ে সাতটা থেকে কাজ করেছি, আমার চোখ জ্বলতেছে, মাথা ব্যথা হয়ে গেছে, সারা দিন কাজ করি আর সারা দিন গালি শুনি।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির গল্প অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। উদাহরণ হিসেবে তিনি একটি ইউটিউব ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এক জনপ্রিয় ইউটিউবার দাবি করেছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান নাকি কাউকে শত কোটি টাকা দিয়েছেন। বক্তার ভাষায়, এসব গল্প শেষ পর্যন্ত বিনোদনের উপকরণে পরিণত হয়।
গতকাল সোমবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আসিফ নজরুল। ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ নামক বইটির লেখক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
আসিফ নজরুলের বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে তার বক্তব্য নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা ও পর্যালোচনা চলছে।
আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভিডিওতে বলেন, ‘আমলারা বাংলাদেশে প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী।’ এমন পরিস্থিতি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজে সরকারে থাকার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা উনাদের ব্যক্তি হিসেবে দোষ, নাকি আমাদের সিস্টেমের দোষ, আমি জানি না।’
আমলাদের কাজে হতাশ হয়ে যান উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের এখানে যারা ইয়াং অফিসার (তরুণ কর্মকর্তা) আছে যাদের স্নেহ করি, আমি তাদের বুঝাই, বাবা, তুমি কিন্তু কেরানি না…ইউ আর আ অফিসার। অফিসারের স্বাধীন বিচার-বুদ্ধি-ক্ষমতা থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, এত দুঃখের মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটা প্রাপ্তি সেটা হচ্ছে আমাদের ফাওজুল কবির ভাইয়ের (উপদেষ্টা) মতো কিছু কিছু মানুষের সঙ্গে আমাদের ক্লোজ ইন্টারেকশন হয়েছে। আমরা যখন হতাশ হয়ে যে আচ্ছা আমলাতন্ত্রের দুর্বলতার কথা বলি। মানুষের আপনার দেশপ্রেমের অভাবের কথা বলি। দায়িত্ববোধের অভাবের কথা বলি। আমার মনে হয় যদি উনার বইয়ের কথা না বলে যদি আমাকে উনার সম্পর্কে বলতে বলা হতো আমি অনেক বেশি আনন্দ পেতাম।
খবরটি শেয়ার করুন