মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ১৫ হাজার টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স: ইকুরিয়া বিআরটিএতে দুদকের ফাঁদে ধরা আনসার সদস্য *** ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান, যাওয়া হবে বাড়ি বাড়ি *** সরকারি হারানো অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত, তথ্য দিলে পুরস্কার *** সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় আহত ৭৩ *** সম্পর্ক জোরদারে পানিবণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ভারতের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান *** সরকার হাসিনাকে ধরে আনতে চায়: ডা. জাহেদ উর রহমান *** তাদের ছেড়ে দেব না, বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা *** শাহজালালে থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর, প্রথম দিনে উড়বে ২০ ফ্লাইট *** শীতে ইউক্রেনকে ‘ভেঙেচুরে ফেলতে পারে’ রাশিয়া, তার আগেই যুদ্ধবিরতির আশা জেলেনস্কির *** পশ্চিম তীরে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরুর হুমকি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের জন্য আসছে নানা নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:১৫ অপরাহ্ন, ৯ই জুন ২০২৩

#

প্রতীকী ছবি

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, গাড়ি-বাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বেশ কিছু পরিবর্তন এনে ব্যাংক কম্পানি আইন আবার সংশোধন করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সংজ্ঞা নির্ধারণও করা হবে এবং তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধানও রাখা হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে বিলে সংশোধনী আনা হয়েছে। এক পরিবার থেকে তিনজনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না- এমন বিধানও রয়েছে বিলটিত। সেইসঙ্গে ব্যাংকের পরিচালক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনিয়মে আর্থিক ক্ষতিপূরণে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি উপস্থাপন করেন। পরে সাত দিনের মধ্যে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত করা ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়, কোন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দুটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোন ব্যাংকের পর্ষদে কোন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবেন না।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোন ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্তাবিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোন ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হতে পারবেন না। অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসাবে অন্য কোন ব্যক্তিকে পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একই সময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এ আইন কার্যকর হওয়ার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বিমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না।

সংশোধনী খসড়ায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।

আরো পড়ুন: দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই।

নতুন আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতার বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে। সংশোধনী খসড়ায় হয়েছে, কোন পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

আইনের বিষয়ে আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, আধুনিক ও সময়োপযোগী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনে কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারিতে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের সময় সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ খসড়া আইনটিকে সংসদে বিল আকারে উত্থাপনে শর্ত দেয় আইএমএফ। ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

এম/


Important Urgent

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250