সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘আমি গায়ের জোরেই দল করি, এটা তারেক রহমানও জানেন’ *** এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘গুরুতর ভুল’ বলে ক্ষমা চাইলেন নোয়াম চমস্কির স্ত্রী *** ভুল করে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে চলে গেল ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন *** ‘সম্ভবত শেষ সংবাদ সম্মেলনে’ যা বললেন প্রেস সচিব *** আইআইএলডির জরিপে নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস *** ইএএসডির জরিপে বিএনপি জোট ২০৮, জামায়াত জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন *** নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী—কে এগিয়ে? *** ‘৬ জনকে হত্যা করার কথা জানান র‍্যাব-ফেরত এক সেনা কর্মকর্তা’ *** পর্যবেক্ষক সংস্থা নিয়ে বিতর্ক, ‘পাশা’র প্রেমে প্রশ্নবিদ্ধ ইসি *** যানজটের কারণে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে সময়মতো অফিসারদের পাঠাতে পারিনি: ডিএমপি কমিশনার

যে দেশের নির্বাচনে প্রার্থী একজন, ভোট না দিলে জেল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০২:৫৭ অপরাহ্ন, ২রা জানুয়ারী ২০২৪

#

ছবি: সংগৃহীত

সর্বশেষ ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নর্থ কোরিয়ায় (উত্তর কোরিয়া)। ওই নির্বাচনে ভোট পড়ে ১০০ শতাংশ। নির্বাচনের সময়টা কোরীয়দের অন্যতম বড় উৎসবও বটে। সর্বত্রই সাজসাজ রব। ভোটারদের উৎসাহিত করতে লাল-গোলাপী ফ্রক পরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় ছোট্ট ছোট্ট শিশু। ভোটকেন্দ্রের বাইরে বাজে ভোটের বাদ্য।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভোটাভুটিতে বিরোধী কোনো প্রার্থী নেই। প্রতি আসনে এক জন করে। ফলে বিজয়ী নির্ধারিতই থাকে। তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান। ২০১১ সাল থেকে ডেমোক্রেটিক পিপল’স রিপাবলিক অব কোরিয়া তথা গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার শাসনদণ্ড তারই হাতে। প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশের একটি নর্থ কোরিয়া। এশিয়ার এই দেশটি সম্পর্কে মানুষের কৌতুহল অনেক। যদিও দেশটির বেশিরভাগ খবরই জানা যায় না। সেখানে একচেটিয়া রাজত্ব চলে নেতা কিমের। দেশটিতে কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

দেশটির আজব রীতি হলো- নির্বাচনে প্রার্থী থাকেন একজনই। ভোটারদের ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। আর একটি ব্যালটে ভোট দিয়েও করতে হয় উল্লাস। ভোট না দিলে সেখানে হতে পারে জেল জরিমানাও।

আরো পড়ুন: নাগরিকদের বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিম

নর্থ কোরিয়ার সংসদের আনুষ্ঠানিক নাম ‘সুপ্রিম পিপলস্ অ্যাসেমব্লি’ (এসপিএ) এবং এতে ভোটদান বাধ্যতামূলক। সরকারি তালিকার বাইরে এতে অন্য কোন প্রার্থী বেছে নেয়ার সুযোগ থাকে না। বিরোধী দল বলেও কিছু নেই।

এই ধরনের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ১০০%। সরকার যে জোট তৈরি করবে সেই জোটকেই সর্বসম্মতভাবে ভোট দিতে হবে।

নর্থ কোরিয়া সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। কিম পরিবার বংশপরম্পরায় এই দেশটি শাসন করছে। শাসক পরিবার এবং ক্ষমতাসীন নেতার প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক।

উত্তর কোরিয়ায় ১৭ বছর বয়সের ওপর সব নাগরিককে ভোট দিতে হয়। কোরীয় বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ ফিয়োদর টার্টিস্কি দেশটির নির্বাচন নিয়ে বলেন, আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে আপনাকে খুব ভোরে নির্বাচন কেন্দ্রে হাজির হতে হবে।

ভোটার যখন ভোটকেন্দ্রে ঢুকবেন, তখন তার হাতে একটি ব্যালট পেপার দেয়া হবে। ব্যালট পেপারে একটাই নাম থাকবে। সেখানে কোন কিছু লিখতে হবে না। কোন বাক্সে টিক চিহ্ন থাকবে না। ভোটার শুধু ব্যালট পেপারটি নিয়ে একটি বাক্সে ভরে দেবে। ভোটের বাক্সটিও সাধারণত খোলা অবস্থায় রাখা হয়।

আরো পড়ুন: সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংসে কিম-পুতিন চিঠি বিনিময়

টার্টিস্কি বলেন, আপনি চাইলে ব্যালট পেপারের নামটিও কেটে দিতে পারেন। কিন্তু সেটা করলে নিশ্চিতভাবেই সরকারের গোপন পুলিশ আপনার সম্পর্কে খোঁজ-খবর শুরু করবে। এ ধরনের কাজ যারা করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাগল আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ভোট দেওয়া শেষ হলে ভোটাররা নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে যাবেন এবং সেখানে উপস্থিত অন্যান্য ভোটের সাথে মিলে আনন্দ প্রকাশ করবেন। এটি এই কারণে যে দেশের সুযোগ্য নেতাদের প্রতি সমর্থন জানাতে পেরে আপনি খুবই খুশি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ভোটের দিনটিকে উৎসব হিসেবে দেখানো হয়। যেহেতু ভোটদান বাধ্যতামূলক, তাই নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে কে ভোট দিতে যায়নি, কিংবা কে দেশ ছেড়ে চীনে পালিয়ে গেছে।

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন উত্তর কোরিয়ায় বিরোধীদলের কোন অস্তিত্বই নেই। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে সে দেশের সংসদে তিনটি দল রয়েছে।

কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির রয়েছে সবচেয়ে বেশি আসন। অন্যদিকে, সোশাল ডেমোক্র্যাট পার্টি আর চন্ডোইস্ট চঙ্গু পার্টির সামান্য কিছু আসন রয়েছে।

তবে এই তিনটি দলের মধ্যে বিশেষ কোন তফাৎ নেই। তারা সবাই মিলে তৈরি করেছে এক জোট, যেটি মূলত দেশ পরিচালনা করে। এই জোটের নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক ফন্ট ফর দ্য রিইউনিফিকেশন অফ কোরিয়া’।

‘সুপ্রিম পিপলস্ অ্যাসেমব্লি’ (এসপিএ) মূলত ক্ষমতাহীন, রাজনীতির ভাষায় যাকে রাবার-স্ট্যাম্প সংসদ বলা হয়। প্রতি পাঁচ বছর পর পর সংসদ নির্বাচন হয়। এটিই রাষ্ট্রের একমাত্র আইন প্রণয়নকারী শাখা।

উত্তর কোরিয়ার আইন তৈরি হয় ক্ষমতাসীন দলের হাতে আর সংসদ শুধুমাত্র সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়। দেশটিতে ২০২৪ সালের ১১ই মার্চ পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এসকে/ 

নির্বাচন উত্তর কোরিয়া কিম জং উন নর্থ কোরিয়া

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250