ছবি: সংগৃহীত
বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আঞ্চলিক সংঘাতের মাঝখানে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই ভূকৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে ঢাকাকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে রোববার (৯ই নভেম্বর) এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘নেভিগেশন জিওপলিটিক্যাল ডায়নামিকস: টুয়ার্ডস এ কোরিয়া-বাংলাদেশ ফিউচার পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে ঢাকার দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস।
শুরুতে বক্তব্য দেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান এবং ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত ইয়ং-সিক পার্ক। সেমিনারটির প্রথম অংশে দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিতীয় অংশে মার্কিন শুল্কের আমলে কোরিয়া-বাংলাদেশের সমন্বিত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অংশে রাষ্ট্রদূত ইয়ং-সিক পার্ক, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ কোরিয়ার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সং কিউংজিন, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মুস্তাফিজুর রহমান অংশ নেন। এ অংশটি সঞ্চালনা করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান।
অন্যদিকে কোরিয়া-বাংলাদেশের সমন্বিত অংশীদারিত্ব অংশে বুসান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. লি সুন-চিউল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, এয়ারপোর্ট ইন্ডাস্ট্রি টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. সং চি-উং এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. পারভেজ করিম আব্বাসী অংশ নেন। এ অংশটি সঞ্চালনা করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির।
বিশ্লেষকরা বলেন, বিশ্ব ক্রমশ সামরিকীকরণের দিকে ঝুঁকছে। নিয়মভিত্তিক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শুল্ক যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ভেঙেচুরে ফেলেছে।
এম হুমায়ূন কবির বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তির রাজনীতির দ্বারা আগ্রাসনের শিকার হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন লক্ষণীয়। যা দক্ষিণ এশিয়া এবং এর আশপাশে আঞ্চলিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। এ ছাড়া বিভাজনমূলক রাজনীতি দেশের স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের উত্থানও দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা, চীন, ভারতে এখন অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ নিয়ে আরও বেশি কথা বলছে। পাল্টাপাল্টি শুল্ক তারই একটি প্রতিফলন। বিশ্ব বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য মিথস্ক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বহুপাক্ষিকতা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।
মার্কিন ‘থিংক টোয়াইস অ্যাক্ট’ নিয়ে পারভেজ আব্বাসি বলেন, আইনটিতে বেশ কয়েকটি উপাদান রয়েছে। যার মধ্যে প্রথমটি হলো চীন থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা থেকে তৃতীয় দেশগুলোকে নিরুৎসাহিত করা। এ ছাড়া তৃতীয় বিশ্বের কাছে মার্কিন অস্ত্রের বিক্রি বাড়ানো। এক্ষেত্রে ঢাকা-সিউল সেমিকন্ডাক্টর ও প্রতিরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়িক সংকট বাড়ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্কিন পাল্টাপাল্টি শুল্ক; যা পুরো বিশ্বকে ভোগাচ্ছে।
বিষয় :