ছবি: বিবিসি
মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নতুন এই নিরাপত্তা জোটের বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছিল, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়ে সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়।
কিন্তু সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সৌদি আরব যখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে, তখন পাকিস্তান ও তুরস্কের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা আসেনি। বরং পাকিস্তান ১০ সেপ্টেম্বর স্পষ্ট করে বলেছে, হুতিদের হামলার জবাবে মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তখন আলোচনা হচ্ছিল না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান অবশ্য বলেছেন, প্রয়োজন হলে পাকিস্তান চুক্তির অধীনে পদক্ষেপ নেবে।
এ অবস্থায় চুক্তির ভাষা ও তার বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে পার্থক্যটি সামনে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই সংঘাতেই প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। পাকিস্তান একই সময়ে সৌদির প্রতিরক্ষা অংশীদার এবং ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। ফলে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ইসলামাবাদের জন্য কূটনৈতিকভাবে জটিল হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কয়েকটি পাম্পিং স্টেশন ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তিনটি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে দিনে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হতো, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান। হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে কয়েকটি শিল্প সূত্র জানিয়েছে।
তবে এই হামলাকে হুতিদের হামলা হিসেবে দেখলে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সৌদি কর্মকর্তারা বলেছেন, ড্রোনগুলো ইরাক থেকে এসেছিল এবং হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠী জড়িত ছিল। অর্থাৎ সৌদি আরব একই সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর চাপের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি ভূখণ্ড ও লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের ওপর আলাদা করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় সৌদি আরবের জন্য তেল রপ্তানির বিকল্প পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর গত ছয় মাসে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। এখন ওই পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি তেল রপ্তানি নতুন ঝুঁকিতে পড়েছে।
এর মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করা হয় বলে সৌদি পক্ষের দাবি। জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থান এবং হাজিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘লাল রেখা’। হুতিরা অবশ্য মক্কা বা কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মক্কার কাছে ড্রোন ধ্বংসের ঘটনাটি চুক্তির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। কারণ ৭ আগস্টের চুক্তিটি শুধু সাধারণ নিরাপত্তা সহযোগিতার ঘোষণা ছিল না। সৌদি ও পাকিস্তানের সরকারি বিবৃতি এবং তুরস্কের সরকারি যোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার নীতি এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে এই ধারার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক দেশ আক্রান্ত হলেই অন্য দুই দেশকে যুদ্ধ করতে হবে—এমন বিস্তারিত সামরিক প্রক্রিয়া চুক্তিতে কতটা নির্ধারিত হয়েছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পাকিস্তানের বক্তব্য থেকে অন্তত বোঝা যাচ্ছে, চুক্তির অস্তিত্ব এবং তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধাপ রয়েছে। ইসলামাবাদ বলেছে, ‘সময় এলে’ তারা চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে চুক্তিটি কার্যকর সামরিক কমান্ড কাঠামো তৈরি করেছে কি না, নাকি মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরোধের কাঠামো—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানের অবস্থান বোঝার জন্য দেশটির আঞ্চলিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা অংশীদার এবং ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী একটি পক্ষ। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত রয়েছে। ২০২৪ সালে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তপারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। ফলে সৌদি-হুতি সংঘাতে সরাসরি সামরিক অবস্থান নেওয়া হলে ইসলামাবাদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে।
এর সঙ্গে পাকিস্তানের নিজস্ব সামরিক চাপও রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা, আফগানিস্তান সীমান্তের নিরাপত্তা এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান—সব মিলিয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ রয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া মন্তব্যে ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক কামরান বুখারি বলেন, বার্তা পৌঁছে দেওয়া আর সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়া এক বিষয় নয়; দ্বিতীয়টি পাকিস্তানকে পক্ষভুক্ত অংশীদার থেকে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া পক্ষের অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক ফারজানা শেখও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। তবে রয়টার্সে উদ্ধৃত আরেক বিশ্লেষক কামরান বুখারির মতে, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই তেহরানের কাছে ইসলামাবাদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানোর একটি বিশেষ মূল্য রয়েছে।
তুরস্কের অবস্থানও একইভাবে সতর্ক। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, আঙ্কারা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। একই প্রতিবেদনে তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা এমন কোনো অনুরোধ পাননি।
অর্থাৎ তুরস্কের ভূমিকা আপাতত সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধ। এর পেছনে আঙ্কারার নিজস্ব আঞ্চলিক স্বার্থও রয়েছে। তুরস্ক একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রাখতে চাইছে। ফলে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া তুরস্কের জন্যও সহজ সিদ্ধান্ত নয়।
সৌদি আরবের জন্য সমস্যাটি আরও গভীর হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির মুখে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সহায়তা চেয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সৌদিকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। ফলে সৌদি আরবের ঐতিহ্যগত প্রধান নিরাপত্তা অংশীদারও আগের মতো সীমাহীন প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষক অ্যাডাম ব্যারন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, বিষয়টি শুধু হুতি ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে হবে না; আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটিও বড় প্রশ্ন। তাঁর মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরবের বর্তমান সংকট সামরিক সীমারেখার বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
এখানেই মক্কা চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ৭ আগস্ট চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরোধ ও পারস্পরিক নিরাপত্তার যে বার্তা দিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের হামলা তার বাস্তব সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে সৌদির পাশে রয়েছে, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে; তুরস্কও সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক যোগাযোগে গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌদি আরবকে সামরিকভাবে রক্ষায় তারা সরাসরি মাঠে নামেনি।
তবে এটিকে সরাসরি চুক্তির ব্যর্থতা বলারও সুযোগ নেই। কারণ চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পর কত সময়ের মধ্যে কী ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নিতে হবে, তা প্রকাশ্য নথিতে বিস্তারিতভাবে বলা হয়নি। পাকিস্তানও বলেছে, প্রয়োজন হলে তারা চুক্তির অধীনে ব্যবস্থা নেবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি বরং চুক্তির ঘোষিত প্রতিরোধক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এবং বাস্তব সামরিক সমন্বয় কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, সৌদি আরব এখন একই সময়ে একাধিক নিরাপত্তা ঝুঁকি সামলাচ্ছে। ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর মাধ্যমে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা এবং বাব আল-মান্দেবের ওপর হুতিদের প্রভাব—সব মিলিয়ে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। ১৬ সেপ্টেম্বর মক্কার কাছে ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা এই সংকটের প্রতীকী গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
তাই মক্কা চুক্তির সামনে এখন মূল প্রশ্ন শুধু পাকিস্তান বা তুরস্ক সৌদির হয়ে যুদ্ধে নামবে কি না, তা নয়। বরং সংকট দীর্ঘ হলে তিন দেশ যৌথভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথ সুরক্ষায় কতটা সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, সেটিই হবে চুক্তিটির বাস্তব মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। আপাতত প্রকাশ্য তথ্য বলছে, মক্কা চুক্তি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি করেছে; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা এখনো শুরু হলেও তার ফলাফল স্পষ্ট হয়নি।
খবরটি শেয়ার করুন