সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নাইজেরিয়ায় ২৫ লাখ আফিম ট্যাবলেট জব্দ, ভারত-বাংলাদেশ থেকে পাচার বলে দাবি কর্তৃপক্ষের *** ফের আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর গোপন সফর, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক *** প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে তিন স্তরের নিরাপত্তা, মাঠে থাকবে ২ হাজার পুলিশ *** চীন-আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর *** চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ সেনাপ্রধানের *** প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে: হুমায়ুন কবির *** প্রাথমিকের অবশিষ্ট ৮১৭ প্রার্থীর নিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনাধীন: শিক্ষামন্ত্রী *** আদাবরে বাড়ি ও মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা: গ্রেপ্তার ১৩ *** হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১১০০ ছুঁই ছুঁই *** ‘দেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে, যদি...’

‘দেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে, যদি...’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় আরও সংশোধনী আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আইনটির অপপ্রয়োগ হলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকেরা হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ কারণে গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে গণমাধ্যম-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখার জন্য গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সেই কমিশনের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সংশোধনী ছাড়া প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে বাংলাদেশ ‘বৃহৎ কারাগারে’ পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সচিবালয়ে প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের নিয়ে সরকারের উদ্যোগে দ্বিতীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি, সংশোধনী ছাড়া যদি এ আইন পাস হয়, তাহলে বাংলাদেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।’

সভা ও পরবর্তী ব্রিফিংয়ে ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বক্তব্য দেন।

এর আগে সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি মৌলিকভাবে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকেরা যাতে এই আইনের কারণে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার প্রস্তাব দেবে পর্যালোচনা কমিটি।

এ জন্য সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ দেবে। তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা কত হবে এবং কারা এতে থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদকে পর্যালোচনা কমিটির ফোকাল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্পাদক পরিষদ, অ্যাটকো এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন ও বৈঠক আহ্বানের ব্যবস্থা করবেন।

আজকের সভাটি ছিল প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে গণমাধ্যমের অংশীজনদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় পরামর্শ সভা। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। তবে এমন আইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে গণমাধ্যমকে আইনের আওতার বাইরে রাখার আহ্বান জানান সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান রাখারও বিরোধিতা করেন তারা।

গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের প্রস্তাব অনুযায়ী এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিইনি। কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক বা এ আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটাও আমরা চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, পর্যালোচনা কমিটি গণমাধ্যমের বিষয়ে যথাযথ সুপারিশ করবে। এরপর আইনের খসড়াটি আবারও সর্বসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।’

সভা শেষে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে মতিউর রহমান চৌধুরী আবারও বলেন, ‘সংশোধনী ছাড়া এই আইন পাস হলে দেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের যে মূল্যবোধ আমরা প্রত্যাশা করি, তার প্রতিফলন এই খসড়া আইনে নেই। সরকার নিজের পায়ে নিজে কুড়ার মারার আইন করছে, তাই এটার বিরোধিতা করছি।’

আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সেটি কীভাবে প্রয়োগ হবে, সেই বাস্তবতাও সরকারকে অনুধাবন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মাহফুজ আনাম। একই সঙ্গে পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় মৌলিক পরিবর্তন আনার বিষয়ে একমত হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো দেখার জন্য গণমাধ্যম কমিশন গঠন এবং সেই কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সুরাহার দাবিও সভায় উঠে আসে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনের অপপ্রয়োগ যাতে না হয়, সে জন্য আলাদা সুরক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন অংশীজনেরা।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর খসড়াটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। এরপর সংশোধিত খসড়া আবারও সর্বসাধারণের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী সাইবার সুরক্ষা আইন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

নাইজেরিয়ায় ২৫ লাখ আফিম ট্যাবলেট জব্দ, ভারত-বাংলাদেশ থেকে পাচার বলে দাবি কর্তৃপক্ষের

🕒 প্রকাশ: ০৭:০১ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফের আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর গোপন সফর, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে তিন স্তরের নিরাপত্তা, মাঠে থাকবে ২ হাজার পুলিশ

🕒 প্রকাশ: ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীন-আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

🕒 প্রকাশ: ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ সেনাপ্রধানের

🕒 প্রকাশ: ০৬:৩২ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250