মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিসিবির চাওয়া পূরণ করল আইসিসি *** জামায়াতের ভোটের প্রচারের সময় টাকা দিলেন আইনজীবী শাহরিয়ার, ভিডিও ভাইরাল *** বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমল ১ শতাংশ *** ‘আনোয়ার হোসেন মঞ্জু—দ্য মিডিয়া বস’ *** ভোট বর্জন করলেন আওয়ামী লীগের কারাবন্দী সাবেক এমপি আসাদ ও এনামুল *** জামায়াতকে ভোট দিলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল *** সরকার গঠন করলে ফজর নামাজ পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করব: জামায়াত আমির *** রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র হবে মহানবীর মহান আদর্শ-ন্যায়পরায়ণতা: তারেক রহমান *** দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, জান্নাত অবধারিত: জামায়াত প্রার্থী *** ‘আমি গায়ের জোরেই দল করি, এটা তারেক রহমানও জানেন’

শেষ ফোনকলটি কেন বেলারুশিয়ান প্রেমিকাকে করেছিলেন এপস্টেইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

নতুন প্রকাশিত নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জীবনের এক কম পরিচিত অধ্যায় উঠে এসেছে। এপস্টেইনের মৃত্যুর আগে তার শেষ ফোনকলটি ছিল কারিনা শুলিয়াক নামে এক বেলারুশিয়ান দন্ত চিকিৎসকের কাছে।

নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায়ও এপস্টেইনের সঙ্গে যার যোগাযোগ অটুট ছিল, তিনি এই শুলিয়াক। এপস্টেইন শুলিয়াককে তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন পাচারের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর যখন এপস্টেইনের বহু বন্ধু ও পরিচিতজন তার কাছ থেকে দূরে সরে গেলেও শুলিয়াক তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন।

তদন্ত নথি অনুযায়ী, এই সম্পর্কের গভীরতা এতটাই ছিল যে এপস্টেইন তার প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে শুলিয়াকের নাম রেখে যান।

কারিনা শুলিয়াকের বয়স বর্তমানে ৩৬ বছর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে বেলারুশের মিনস্কে তাদের প্রথম দেখা। তখন শুলিয়াকের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। এক রুশ নারী তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই এপস্টেইন তার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখান এবং তাকে নিজের ঘনিষ্ঠ বলয়ে টেনে নেন। পরবর্তী সময়ে শুলিয়াকের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথও সহজ করে দেন তিনি।

নথিতে এই সম্পর্ককে ‘ঘনিষ্ঠ কিন্তু অসম’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এপস্টেইন কখনো শুলিয়াককে তার প্রেমিকা, কখনো বাগ্‌দত্তা হিসেবে উল্লেখ করতেন। তার জন্য রেখে যাওয়া সম্পদের মধ্যে ছিল ৩৩ ক্যারেটের একটি হিরার আংটিও। এটিকে তিনি এনগেজমেন্ট রিং হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

চিঠিপত্র ও ইমেইলগুলোতে শুলিয়াকের মানসিক দ্বন্দ্বও স্পষ্ট। ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কাজে প্রলুব্ধ করার দায়ে এপস্টেইন দণ্ডিত হলেও, ২০১২ সালে শুলিয়াক তাকে লিখেছিলেন, ‘সব পুরুষের মধ্যে আপনি সবচেয়ে পবিত্র।’ 

তদন্তকারীদের মতে, এই বার্তা তার গভীর আনুগত্য এবং আবেগের এক জটিল মিশ্রণ তুলে ধরে।

তবে শুরুতে শুলিয়াকের মধ্যে দ্বিধাও ছিল। এক বার্তায় তিনি এপস্টেইনের সাহায্য নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। সেই বার্তা অন্য একজনকে ফরোয়ার্ড করে এপস্টেইন মন্তব্য করেছিলেন, ‘মনে হয় সে খবর পড়েছে।’

পরবর্তী সময়ে শুলিয়াক যুক্তরাষ্ট্রে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে এপস্টেইনের গৃহকর্মী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল মেডিসিন কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৫ সালে স্নাতক হন। 

নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন তার পড়াশোনার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন—অনুদান দেওয়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা পর্যন্ত।

ব্যক্তিগত বার্তালাপে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনও স্পষ্ট। এপস্টেইন কখনো অভিযোগ করেছেন পর্যাপ্ত সময় বা ঘনিষ্ঠতা না পাওয়ার, আবার শুলিয়াক লিখেছেন, প্রতিদিন তাকে কান্না চেপে রাখতে হচ্ছে। ঈর্ষা ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাও ছিল এই সম্পর্কে।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, শুলিয়াক এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করছেন, বিভিন্ন বৈঠকে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন—এমনকি নোম চমস্কির মতো খ্যাতনামা শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও।

নথিতে আরও বলা হয়, এপস্টেইন তার একাধিক বাড়িতে ডেন্টাল চেয়ার বসিয়েছিলেন, যা শুলিয়াকের পেশার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জীবনের অদ্ভুত মেলবন্ধনের ইঙ্গিত দেয়।

জে.এস/

জেফরি এপস্টেইন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250