ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে ট্রায়াল দেওয়ার নামে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে যুবদলের এক নেতা লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তুলে আজ রোববার (১১ই জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় গ্যারেজমালিক নূর আহমেদ রাজশাহী নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এরপর বিকেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নেতাকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত নেতার নাম এস এম সফিক মাহমুদ তন্ময়। তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাও ছিলেন।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তন্ময়কে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে গ্যারেজমালিক নূর আহমেদের ভাই মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, নগরের বন্ধগেট এলাকায় তার ভাই নূর আহমেদের একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে তিনি গাড়ি মেরামতের কাজ করেন। পাশাপাশি পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করেন।
গত ১৮ই নভেম্বর বিকেলে গ্যারেজে গাড়ি কেনার জন্য যান যুবদল নেতা তন্ময়। এ সময় তিনি গ্যারেজে থাকা একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। ছয় লাখ টাকা দাম হয়। এরপর তন্ময় গাড়িটি ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। তারপর আর তিনি ফেরেননি। কয়েক দিন পর ফোন ধরলেও গাড়ি দিতে চাননি। মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, তন্ময় বলেছিলেন যে, তিনি যুবদল নেতা। তার কিছু করা যাবে না।
গ্যারেজমালিক নূর আহমেদ বলেন, ‘আমি গত ১৪ই ডিসেম্বর মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু ওসি মামলা নেননি। আসামি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আমাকে তিনি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে গত ২২শে ডিসেম্বর আদালতে মামলা করি। বিষয়টি মহানগর বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
নূর আহমেদ দাবি করেন, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে তিনি গাড়িটি কিনে বিক্রির জন্য গ্যারেজে রেখেছিলেন। এ-সংক্রান্ত চুক্তিনামা, বিআরটিএর সমস্ত কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিও তার কাছে রয়েছে। সেই গাড়ি তন্ময় নিয়ে গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তন্ময় বলেন, ‘গাড়িটা আমার কেনা। গ্যারেজ থেকে ট্রায়াল দেওয়ার নামে গাড়ি আনার অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়।’ গাড়ি কেনার অ্যাফিডেভিট আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এখনো করা হয়নি।’
দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জেনেছেন জানিয়ে তন্ময় বলেন, ‘দল তো আমাকে শোকজও করেনি। হঠাৎ এটা দেখেছি। সমস্যা নাই। আমি সঠিক আছি। সবকিছুই প্রমাণ হয়ে যাবে।’
রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘যারা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তন্ময়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটি জেনেছি। ইতিমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে বহিষ্কার করেছে।’
খবরটি শেয়ার করুন