শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার *** ফাওজুল কবিরের সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টাদের ইফতার ও নৈশভোজ *** আমি কিছু দেখিনি, ভুল কিছু করিনি—বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য *** হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি *** ‘কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না’ *** জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার বিষয়টি তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল *** তালেবানের পৃষ্ঠপোষক থেকে কেন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল পাকিস্তান *** ‘ড. ইউনূসের সময়কালে অপসারণ চেষ্টা’—রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জামায়াত আমিরের *** কবি মোহন রায়হানকে ‘অপমান’ করায় উদীচীর নিন্দা *** কুষ্টিয়ার ‘ওপরওয়ালা’ দাবি করে দেওয়া আমির হামজার বক্তব্য ভাইরাল

ইরানের সরকার স্বীকার করল নিহত ২০০০—বেসরকারি সূত্রমতে ১২০০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:২৬ অপরাহ্ন, ১৩ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান অস্থিরতায় প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আজ মঙ্গলবার (১৩ই জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান। দেশজুড়ে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ও কঠোর দমন-পীড়নে মৃত্যুর এই সংখ্যা প্রথমবারের মতো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছেন। তবে ঠিক কতজন বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি। তার দাবি, যাদের তিনি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তারাই এই সহিংসতার জন্য দায়ী এবং বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর উভয় পক্ষের মৃত্যুর পেছনেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন সহিংস অভিযানে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে প্রবাসী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে এই গণহত্যার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করা, সংবাদমাধ্যম বন্ধ এবং সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত কয়েক দিনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া ভয়াবহ তথ্য যাচাই করে একটি সামগ্রিক চিত্র দাঁড় করাতে কাজ শুরু করে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। দীর্ঘ ও বহুস্তর যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার—৮ই ও ৯ই জানুয়ারি—টানা দুই রাতে সংঘটিত এই দমন-পীড়ন ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দুটি সূত্র, মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ সূত্র, নিহতদের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক ও নার্সদের তথ্য মিলিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ, যাদের বড় অংশকে আইআরজিসি ও বসিজ বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ।

তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযান ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

ইরানে এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে। বিশ্লেষকদের মতে, গত অন্তত তিন বছরের মধ্যে এটি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপও তেহরানের ওপর আরও বেড়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ‘বৈধ’ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর দমন অভিযান চালানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে এবং তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইরান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250