রবিবার, ৪ঠা অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইংল্যান্ডের কাছে রেকর্ড ব্যবধানে হেরে ‘লজ্জিত’ মদ্রিচ *** নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে—এলপিজির দাম নিয়ে পরওয়ার *** দাম বাড়ল অটোগ্যাসেরও *** বিডিনিউজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশ *** বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার *** রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: ব্রিটিশ হাইকমিশনার *** আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি, বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল, হাতাহাতি *** একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানিত করার হীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: শফিকুর রহমান *** রিমান্ড শেষে কারাগারে আখতারুজ্জামান *** ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থি-বামপন্থির লড়াই: আজ ভোট, মুখোমুখি লুলা ও ফ্লাভিও

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৫ অপরাহ্ন, ৪ঠা অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে ও রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে দেশটি।

আজ রোববার রাজধানীতে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ দ্বিতীয় দিনের সেশনে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।

সারাহ কুক বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে অসাধারণ উদারতা দেখিয়েছে, যুক্তরাজ্য তা স্বীকার করে। রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার পাশাপাশি সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো—পরিস্থিতি যখন অনুমতি দেবে, তখন রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া।

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও জবাবদিহির ওপরও গুরুত্ব দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারবিষয়ক পেনহোল্ডার হিসেবে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও জবাবদিহির জন্য চাপ অব্যাহত রাখছে। চলতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বজায় রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য আলোচনায় সহ-আয়োজক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

সারাহ কুক বলেন, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্যও মানবিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সংকটের মূল কারণ ও উৎস মিয়ানমারেই রয়েছে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা এই অঞ্চলে মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক নিশ্চিত করা দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ।

সারাহ কুক বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ শুধু সামরিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত নিরাপত্তাঝুঁকির মতো বিষয়গুলো মোকাবিলায় ঐতিহ্যগত সীমারেখার বাইরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দুই দেশের অংশীদারত্ব মূলত উন্নয়ন সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও বর্তমানে তা আধুনিক কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, উত্তরণপ্রক্রিয়াটি যেন মসৃণ ও টেকসই হয়, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে চায়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের আওতায় বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। এলডিসি উত্তরণের পর আরও তিন বছর এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এরপরও তৈরি পোশাকসহ ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে।

সারাহ কুক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250