বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিএনপি ক্ষমতায় এলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে: তারেক রহমান *** জামায়াতের ইশতেহারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে যেসব বিষয় *** কিশোরগঞ্জে ২ হালি ডিম বিক্রি হলো ২০০০ টাকায় *** ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইলেন আ. লীগের নেতারা, ভিডিও ভাইরাল *** বঙ্গভবন ও ভারতের সঙ্গে প্যাকেজ প্ল্যানে বিএনপি সাইবার অ্যাটাক করছে: গোলাম পরওয়ার *** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শীর্ষ অলরাউন্ডার পাকিস্তানের তারকা *** পাকিস্তানকে ‘বোঝাতে’ সিঙ্গাপুরের শরণ জয় শাহদের *** উড়োজাহাজে ঘুমের ভান করে নারীর গায়ে হাত, ভারতীয় যুবক গ্রেপ্তার *** বিএনপি সরকার গঠন করলে এনসিপির অবস্থান কী হবে, ভারতীয় গণমাধ্যমকে যা জানালেন নাহিদ *** বডি ক্যামেরার ভিডিও ফাঁস হওয়া নিয়ে যা বললেন সায়ের

বিএনপির মধ্যে কমপক্ষে ১০ শতাংশ গুপ্ত জামায়াত আছে: এম এ আজিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, ৪ঠা জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এম এ আজিজ বলেছেন, বিএনপির ভেতরে কমপক্ষে ১০ শতাংশ গুপ্ত জামায়াত রয়েছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের শনাক্ত করা কঠিন, কারণ তারা প্রকাশ্যে অতিরিক্ত বিএনপি-ঘেঁষা অবস্থান প্রদর্শন করে নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করে এবং ধীরে ধীরে দলের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করে।

শনিবার (৩রা জানুয়ারি) সাংবাদিক মাসুদ কামালের ইউটিউব চ্যানেল ‘অন্যমঞ্চ’—তে সাক্ষাৎকারে এম এ আজিজ এসব কথা বলেন।  নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে সমালোচনা করে এম এ আজিজ বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় প্রকৃত হিসাব দেওয়া হয় না; দেওয়া হয় আনুমানিক ও সাজানো সংখ্যা। কারণ, হলফনামার সঙ্গে কোনো বাস্তব হিসাব-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করার বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ বাস্তবতা হলো—ঢাকা শহরে একটি আসনে নির্বাচন করতে ৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা, কোথাও কোথাও তারও বেশি খরচ হয়।

তিনি মনে করেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার কমপক্ষে তিন মাস আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। দুদক, এনএসআইসহ সব সংস্থার মাধ্যমে প্রার্থীর অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও সততা যাচাই করা জরুরি।

তিনি বলেন, দুর্নীতি যখন রাষ্ট্রের বড় সমস্যা, তখন দুর্নীতি দমনের সূচনা হওয়া উচিত প্রার্থী বাছাই থেকেই। এ ছাড়া সমস্যা কেবল সিস্টেমের নয়, প্রার্থীর মানসিকতারও। যে ব্যক্তি শুরুতেই হিসাব গোপন বা বিকৃত করে, তার কাছ থেকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন বা সুশাসনের আশা করা অবাস্তব।

এনসিপির সমালোচনা করে আজিজ বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সব বড় আন্দোলনেই ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে। সর্বশেষ গণ-অভ্যুত্থানের পর আমি আশা করেছিলাম, অন্তত একটি শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি হিসেবে এনসিপি টিকে থাকবে। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে সেই সম্ভাবনাই তারা নষ্ট করেছে। বাস্তবতা হলো, এই নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই এনসিপির স্বতন্ত্র সত্তা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আজকের বাস্তবতায় জামায়াতের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রকাশ্য। একসময় যেটা ছিল ‘এ-টিম, বি-টিম’, এখন সেটা খোলামেলা। এমনকি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভেতরেও গুপ্ত জামায়াত থাকার ইতিহাস নতুন নয়। বিশেষ করে বিএনপি যেহেতু একটি মধ্যপন্থী দল, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই গুপ্ত জামায়াতকে শনাক্ত ও বাদ দেওয়া। নইলে দলটি মধ্যপন্থী চরিত্র ধরে রাখতে পারবে না। আমার কাছে মনে হয়, বিএনপির মধ্যে কমপক্ষে ১০ শতাংশ গুপ্ত জামায়াত আছে।

এম এ আজিজ মনে করেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য সৎ, মধ্যপন্থী ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি অপরিহার্য। আর সেটা সম্ভব নয়, যদি প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে জোট রাজনীতি পর্যন্ত সবখানেই আপস, গোপন সমঝোতা ও আদর্শহীনতা চলতে থাকে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন প্রয়োজন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু শুধু নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। সৎ রাজনীতি, স্বচ্ছ প্রার্থী এবং আদর্শিক স্পষ্টতা ছাড়া এই দেশের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ও মানবিক যাত্রা পূর্ণতা পাবে না।

এম এ আজিজ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250