বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শীর্ষ অলরাউন্ডার পাকিস্তানের তারকা *** পাকিস্তানকে ‘বোঝাতে’ সিঙ্গাপুরের শরণ জয় শাহদের *** উড়োজাহাজে ঘুমের ভান করে নারীর গায়ে হাত, ভারতীয় যুবক গ্রেপ্তার *** বিএনপি সরকার গঠন করলে এনসিপির অবস্থান কী হবে, ভারতীয় গণমাধ্যমকে যা জানালেন নাহিদ *** বডি ক্যামেরার ভিডিও ফাঁস হওয়া নিয়ে যা বললেন সায়ের *** দেশে নিপাহর মতোই বাদুড়বাহিত আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাসের সন্ধান *** তারেক রহমান অত্যন্ত জনপ্রিয়, তার ক্ষমতাকে কে চ্যালেঞ্জ করবে, প্রশ্ন দ্য ডিপ্লোম্যাটের *** আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৪৮ শতাংশ এবার কোন দলকে ভোট দেবেন, যা বলছে জরিপ *** ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী ইসলামি দল’ *** নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইসি

তারেক রহমান অত্যন্ত জনপ্রিয়, তার ক্ষমতাকে কে চ্যালেঞ্জ করবে, প্রশ্ন দ্য ডিপ্লোম্যাটের

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিনে ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এ কারণেই এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের আগস্টে ১৬ বছর ধরে চলা কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। সেই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন পটভূমি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটে এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ব্যাপারে নতুন আশা তৈরি হয়।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ জেনারেশন জেড বা জেন-জি এবং মিলেনিয়াল। এক অর্থে বলা যায়, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মই ঠিক করবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। এই জেন-জি ভোটারদের অনেকেই বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তারেক রহমান। সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় তারেক রহমান যমুনা নদীর তীরে এক রাজনৈতিক সভায় অংশ নিচ্ছিলেন।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: সর্বশেষ ২০০৬ সালে নির্বাচনের সময় জেলা পর্যায়ে আপনার সফর ছিল। দীর্ঘদিন শুধু ভার্চুয়াল যোগাযোগের পর এবার আপনি সরাসরি জেলা পর্যায়ে যাচ্ছেন। প্রায় ২০ বছর পর কী পার্থক্য দেখছেন?

তারেক রহমান: তখনকার কর্মসূচিগুলো মূলত আমার দলের নেতা ও কর্মীদের নিয়ে ছিল। সে সময় আমি বেশির ভাগই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতাম। এখন সব বয়সের, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হচ্ছে।

আমি দেখতে পাচ্ছি, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এটা আমার জন্য আনন্দের। আমি উদ্যমী তরুণদের সঙ্গে দেখা করছি, তাদের সঙ্গে কথা বলছি, সেলফি তুলছি। এটা আমার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি আমি সত্যিই উপভোগ করছি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: দেশে জেন-জিনির্ভর কিছু রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু আপনি বাংলাদেশে ফেরার পর জেন-জির যে আবহ, তা আপনার দিকেই ঝুঁকেছে। কেন?

তারেক রহমান: আমরা জেন-জির চিন্তাভাবনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি। আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত এবং চাকরির বাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমি মনে করি, এসব বিষয় জেন-জির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে মিলছে।

আজকের পরিবেশ দেখলে বোঝা যাবে, সভায় অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশই ছিলেন জেন-জি। আমি ‘দ্য প্ল্যান’ নামে একটি কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের কথা শুনি। সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিন্ন ভিন্ন পটভূমির শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনা, উদ্বেগ ও মতামত তুলে ধরেন। তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে আমি সত্যিই উপভোগ করি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: এই জনপ্রিয়তা কি আপনার ওপর কোনো চাপ তৈরি করছে?

তারেক রহমান: আমি জনপ্রিয়তাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি। আমার বিশ্বাস, এটি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: কিন্তু জেন-জির একটি অংশ, যেমন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আপনার বিরোধী অবস্থানে আছে। আগামী দিনে তারা সংসদে এবং রাজপথে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করবে। আপনি কতটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন?

তারেক রহমান: আমি কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি, অন্যরাও তা-ই করছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো। যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি, আমরা আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করব। এটাই সব। আমার অঙ্গীকার জনগণের প্রতি। তারাই আমার শক্তি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন। এটা কি কেবল কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন নয়? (সম্পাদকের নোট: ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার।) সস্তা শ্রম আর গার্মেন্টসনির্ভর অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশ কি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারে?

তারেক রহমান: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্স। এই দুটি খাত বিএনপি সরকারের সময় চালু হয়েছিল। আমরা আইটি খাতে জোর দেব।

একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুটওয়্যার এবং এসএমই খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি খাদ্য খাতেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য। আমরা পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করতে পারি এবং সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: বর্তমানে ব্যাংকঋণের ৩৬ শতাংশ খেলাপি। অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনের ১৫ বছরে প্রতিবছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এমন একটি দেশে আপনি কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখেন?

তারেক রহমান: আপনি যে ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের কথা বলছেন, তা ঘটেছে আগের স্বৈরাচারী শাসনামলে। সরকার নিজেই তখন এসব অনিয়ম ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু এগুলো ছিল জনগণের অর্থ। সেখানে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না, কোনো জবাবদিহিও ছিল না। জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। তাই তারা এসব করেছে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: কিন্তু আপনার সরকার যে একই কাজ করবে না, তার নিশ্চয়তা কী?

তারেক রহমান: আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চাই। আমরা জনগণের সরকার হতে চাই। যদি আমরা জনগণের সরকার হই, তাহলে আমরা কীভাবে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ হতে দিতে পারি? জনগণই আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখবে। আমরা যদি শক্তিশালী আর্থিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। 

আমাদের অঙ্গীকার হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দুর্নীতিকে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। সবকিছুই নির্ভর করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: ৫ই আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে দেশ দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে যাবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাও ব্যর্থ হবে।

তারেক রহমান: অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় তার নামেই আছে—এটি স্বল্পমেয়াদি সরকার। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক সরকার ভিন্ন। এমন সরকার জনগণের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বহন করে। আমরা আইনশৃঙ্খলা এমন জায়গায় নিতে চাই, যেখানে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা ব্যাহত হবে না।

মানুষ রাতে ভয় ছাড়া বাড়ি ফিরতে পারবে। অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবে চলবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা করব। আমরা আইনের শাসন, বাক্‌স্বাধীনতা সমুন্নত রাখব এবং সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করব।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার সাক্ষাৎকার নিতে আসার আগে আমি দেশের নাগরিক সমাজের দুজন প্রতিনিধির কাছে তাদের প্রশ্ন জানতে চেয়েছিলাম। তাদের প্রথম প্রশ্ন হলো—এখন আপনি অত্যন্ত জনপ্রিয়; আপনার ক্ষমতাকে কে চ্যালেঞ্জ করবে? দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশে ‘উইনার টেকস অল’ বা বিজয়ীরাই সব ফল ভোগ করে—এমন প্রবণতা আছে। সেই বিবেচনায় আপনারা ক্ষমতায় এলে কি সব প্রতিষ্ঠানের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন? যেখানে আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠানই সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

তারেক রহমান: প্রথম প্রশ্নটির জবাবে বলি—বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে একদলীয় ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০১ সালে আমাদের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, কিন্তু আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করিনি। গণতন্ত্র আমাদের দলের সংস্কৃতি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই আমাদের জবাবদিহির ভিত্তি।

দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে আমি পুরোপুরি একমত নই যে আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে; না হলে অতীতে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব হতো? তবে গত ১৭ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনে অনেক প্রতিষ্ঠান রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্তিশালী হবে।

আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শিকার। সে কারণেই আমরা প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করব—যেখানে প্রতিটি মানুষ পূর্ণ অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে সম্মান পাবে। ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মের মানুষদের সমতা, ন্যায় ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভারতের প্রতি ঝুঁকে থাকা পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত—এই দেশগুলোর নজর বাংলাদেশের দিকে। আপনার পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে?

তারেক রহমান: আমার সামনে ২০ কোটি মানুষ। ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। আমাদের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে এবং সারাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ ঘটাতে হবে। আমরা যে দেশগুলোর সঙ্গেই সম্পর্ক রাখি না কেন, জাতীয় স্বার্থই সবার আগে থাকবে।

আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ নীতি। আমরা অর্থনীতিভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দেব, যা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। পারস্পরিক আস্থা, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে আমরা পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিচালনা করব।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার জলবায়ু নীতিগুলো প্রশংসনীয়। কিন্তু আপনি জানেন, ঢাকায় বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তু রয়েছে। আপনি অভিযোজন নীতিসহ নানা প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন, যা বেশ উচ্চাভিলাষী মনে হয়। এটি কীভাবে সম্ভব হবে?

তারেক রহমান: আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেব। বাস্তবতা খুবই কঠিন। অতীতে মাত্র ২০ ফুট খুঁড়লেই ভূগর্ভস্থ পানি পাওয়া যেত। কিন্তু আজ ৩০০ ফুট গভীরে গিয়েও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না। তাহলে কি এটি সত্যিই ‘অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী’, নাকি একেবারেই অনিবার্য?

পূর্ববর্তী কর্তৃত্ববাদী শাসনে সুন্দরবনে গোলপাতা লাগানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে একটি চারা কিনতে বরাদ্দ ছিল ৮ টাকা, কিন্তু পরিবহন খরচ দেখানো হয়েছিল ১০ টাকা। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, কোথায় এবং কীভাবে জনগণের অর্থ অপব্যবহার করা হয়েছিল। জলবায়ু খাতসহ সব খাতে দুর্নীতি রোধ করতে হবে এবং আমরা সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি অর্থের অপব্যবহার বন্ধ করতে পারলে জলবায়ু খাতে আরও কার্যকর বিনিয়োগ এবং অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। আমাদের শুরু করতেই হবে। আমরা দায়িত্বশীলভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা করব এবং গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ড থেকেও অর্থ সংগ্রহ করব।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি ক্ষমতায় এলে একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি বলুন, যা আপনি বাস্তবায়ন করবেন। যদি তা পূরণে ব্যর্থ হন, পাঁচ বছর পর আমরা আপনাকে জবাবদিহির আওতায় আনব।

তারেক রহমান: আমরা আমাদের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষাসহ সাতটি মূল অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব বিষয়ে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দেব। মানুষের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষা রক্ষা করব। জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করব—এটাই দেশের মানুষের কাছে আমার প্রতিশ্রুতি।

তারেক রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250