বুধবার, ৭ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** অভিনয়ে বিনিয়োগ থেকে মুনাফা কম: প্রসূন আজাদ *** গত ১০ বছরে রুনা লায়লা যে কারণে অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে যাননি *** শিশু মোস্তফা খতনা করাতে হাসিমুখে হাসপাতালে ঢুকেছিল, অতঃপর... *** সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনা উদ্বেগজনক, ঠেকাতে উদ্যোগ নেই সরকারের: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য *** সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তীব্রতায় গভীর ক্ষোভ, ভোট দেওয়া নিয়ে সংখ্যালঘুরা শঙ্কিত *** বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহনের ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত বাতিল চায় টিআইবি *** ফিলিস্তিনের জন্য সুখবর, লন্ডনে দূতাবাস উদ্বোধন *** এসে আমাকে ধরুন—ট্রাম্পকে এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর চ্যালেঞ্জ *** ট্রাম্পের চাপের পরও রাশিয়ার তেল কেনা থামায়নি ভারত *** মাদুরোর ওপর বাজি ধরে ৫ কোটি টাকা জিতলেন জুয়াড়ি

ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নেতৃত্ব দেবেন কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, ৪ঠা জানুয়ারী ২০২৬

#

(উপরে বাম থেকে) এডমুন্ডো গঞ্জালেস, মারিয়া কোরিনা মাচাদো, ডেলসি রদ্রিগেজ ও (নিচে বাম থেকে) জর্জ রদ্রিগেজ, দিয়োসদাদো ক্যাবেলো, ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। ছবি: কোলাজ

মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এখন নেতৃত্বশূন্য ভেনেজুয়েলা। শনিবার (৩রা জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্সকে আটক করা হয়। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।

মাদুরো দেশে নেই—এমন বাস্তবতায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা এবং দেশটি অস্থিতিশীলতার দিকে এগোতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। যদিও রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নিচ্ছে। কিন্তু মাদুরোর স্থান কে নেবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

তবে সম্ভাব্য কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে অথবা অভ্যন্তরীণভাবে ক্ষমতা দখল করে নিতে পারেন এই শীর্ষ ব্যক্তিরা। 

বর্তমান বিরোধী দলের নেতা এডমুন্ডো গনজালেসকে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বিজয়ী ও ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ওই নির্বাচনের বিস্তারিত ফল প্রকাশ না করেই মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলার নির্বাচন কমিশন।

বাইডেন প্রশাসন বলেছিল, গনজালেস সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন। আর ট্রাম্প প্রশাসন আরও এক ধাপ এগিয়ে তাকে 'নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি' ঘোষণা করে। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় ৭৬ বছর বয়সী গনজালেস তখন পালিয়ে স্পেনে আশ্রয় নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন ও অর্থনৈতিক সহায়তা না দিয়ে গনজালেসকে হঠাৎ ক্ষমতায় বসালে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। কারণ ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতির প্রকৃত চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত মারিয়া কোরিনা মাচাদো। 'ভেন্তে ভেনেজুয়েলা' দলের প্রধান মাচাদো ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের জন্য প্রাইমারিতে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তবে মাদুরো-নিয়ন্ত্রিত সুপ্রিম ট্রাইব্যুনাল অফ জাস্টিস তাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দেয়।

২০২৪ সাল থেকে আত্মগোপনে থাকা মাচাদো সম্প্রতি একটি 'স্বাধীনতা ইশতেহার' প্রকাশ করে দাবি করেন, মাদুরো বিদায় নিলে প্রথম ১০০ ঘণ্টা ও ১০০ দিনের জন্য তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাচাদো তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব হলেও সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব তার প্রতি আস্থা রাখবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, তিনি গঞ্জালেসের পেছনে থেকে প্রকৃত ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারেন।

ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবেন।

২০১৮ সাল থেকে মাদুরোর ডানহাত হিসেবে পরিচিত ৫৬ বছর বয়সী বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।

তবে বিভিন্ন সূত্র ও কিছু গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, রদ্রিগেজ ও তার ভাই জর্জ রদ্রিগেজ কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে 'মাদুরো ছাড়া মাদুরিজম'-এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে রদ্রিগেজ এখন প্রথম সারিতে থাকলেও তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, ভেনেজুয়েলার জনগণ ও বিরোধীদের কাছে তিনি কতোখানি গ্রহণযোগ্য বা বিশ্বাসযোগ্য হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

জাতীয় পরিষদের সভাপতি ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই জর্জ রদ্রিগেজ ছিলেন মাদুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার মূল সমন্বয়ক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ভেতরে-বাইরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ধীরে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সমঝোতা হলে জর্জ রদ্রিগেজ একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিতে পারেন। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাবশালী।

যুক্তরাষ্ট্র তার গ্রেপ্তারের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনি নির্বাচন জিততে না পারলেও সেনা ও পুলিশের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে অস্থিরতা ঠেকাতে সক্ষম হতে পারেন।বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাবেলোর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য তার যথেষ্ট ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব থাকবে।

২০১৪ সাল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পারন করছেন পাদ্রিনো লোপেজ। সেনাবাহিনীর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্র তাকে গ্রেপ্তারের জন্যও ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

তিনি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।  বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা কম হলেও ভেতরে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন ভেনেজুয়েলার নিরাপদ রূপান্তরের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই দেশটি পরিচালনা করবে।

শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, 'সবাই জানে যে, ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির। আমরা আমাদের বৃহৎ তেল কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় কাজে লাগাতে যাচ্ছি। কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে যাচ্ছি। আমরা দেশটির জন্য টাকা উপার্জন করে দেবো।'

জে.এস/

ভেনেজুয়েলা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250