শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের চাপের পরও রাশিয়ার তেল কেনা থামায়নি ভারত

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, ৭ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপ ও শুল্ক হুমকির মধ্যেও রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ভারত এখনো শক্ত অবস্থানে। সাম্প্রতিক ছয় মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও মোট আমদানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এখনো রুশ তেল থেকেই আসছে। তথ্যসূত্র: নিক্কেই এশিয়া।

ডেটা ও বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী—২০২৫ সালের জুনে ভারত যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, তার ৪৪ শতাংশই ছিল রাশিয়ার তেল। অবশ্য ছয় মাসের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে ভারতে আমদানি করা মোট তেলে রুশ তেলের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২৫ শতাংশে। তারপরও ওই মাসে রাশিয়াই ছিল ভারতের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ।

গত সোমবার (৫ই জানুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এক সতর্কতায় বলেছেন—রাশিয়া থেকে তেল কেনা আরও না কমালে ভারতীয় পণ্যের ওপর খুব দ্রুত শুল্ক বাড়ানো হতে পারে। গত আগস্টে তিনি রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় রপ্তানির ওপর আরোপ করা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, রুশ তেল কেনার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছে ভারত।

এই চাপের মধ্যে ভারত অপরিশোধিত তেলের উৎসে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। গত ডিসেম্বরে ইরাক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও কুয়েত ও ব্রাজিল থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সে সময় কুয়েত থেকে আমদানি করা তেল জুনের তুলনায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে দিনে ২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছায়। একই সময়ে ব্রাজিল থেকে আমদানি শূন্য থেকে বেড়ে দাঁড়ায় দিনে ২ লাখ ৪৬ হাজার ব্যারেল।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। গত আগস্টে শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মার্কিন তেল আমদানি দ্বিগুণের বেশি হয়।

তবে কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া বলছেন, প্রতিযোগিতামূলক দাম, ভারতীয় শোধনাগারের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং দীর্ঘদিনের সরবরাহ সম্পর্কের কারণে রুশ তেল ভারতের জ্বালানি কাঠামোয় ‘গাঠনিকভাবে গেঁথে’ আছে। তিনি ধারণা করছেন, বড় ধরনের দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞা না এলে জানুয়ারির পর থেকেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আবার বাড়তে পারে।

এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উদ্যোগ বৈশ্বিক তেল বাজারে প্রভাব ফেললেও ভারতের জন্য এর সুফল সীমিতই থাকবে। কারণ, ভারতের হাতে গোনা কয়েকটি শোধনাগারই ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটনের চাপ, মস্কোর সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্বার্থ—এই তিনের ভারসাম্য রক্ষা করেই জ্বালানি নীতি এগিয়ে নিতে চাইছে নয়াদিল্লি।

তেল আমদানি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250