ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিরোধীদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কড়াকড়ি ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী জুড়েই পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিরোধী দলের চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ ২ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটকদের মধ্যে এক বিজেপি নেতার মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিংহ-ও রয়েছেন।
ভোটদান তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিন্যাস’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গতকাল শনিবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
বিক্ষোভ দমনে দিল্লি জুড়ে ৪০ হাজারেরও বেশি দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের গতিপথ রুদ্ধ করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ বসায় কর্তৃপক্ষ।
পার্ক থেকে বিজেপি নেতার কন্যা আটক
ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংহের কন্যা যশস্বিনী রাজে সিংহ। তিনি জানান, একটি গুরুদ্বারের পাশের পার্কে বসে থাকা অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যশস্বিনী লেখেন, ‘বাংলা সাহেবের কাছের একটি পার্কে বসে থাকার সময় আমাকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে কেশব পুরম পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছে।’
উত্তরাঞ্চলের ফতেহপুর সদর আসনের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংহের কন্যা যশস্বিনী এর আগেও জুলাই ও জুন মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আয়োজিত ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী আটক
যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার চেষ্টার সময় বিরোধী দলগুলোর চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারকে আটক করে পুলিশ।
তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মধ্য দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ আটক করা হয়। পুলিশ বিক্ষোভস্থলে যেতে বাধা দিলে তিনি রাস্তার পাশের একটি বাস স্টপেজে বসে পড়েন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনসহ তার দলের পাঁচজন সংসদ সদস্যকে পুলিশি বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে ওই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখে ব্যান্ড-এইড এঁটে বসে ছিলেন। আটকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করছে। জনগণের কণ্ঠস্বর জোরালো করতে আমরা “ইন্ডিয়া” জোট লড়াই চালিয়ে যাব।’
পুলিশের ভাষ্য মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত রুখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্র নেতাদেরও আটক করা হয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন