বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** দুই মাসে নেই দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র—তবু চীন কেন চুপ *** সরকারে থাকা অবস্থায়, আগে-পরে জীবনে কখনো দুর্নীতি করিনি: আসিফ নজরুল *** রঙিন দোল উৎসবে সম্প্রীতির বার্তা *** সাইরেন বাজলেই যা করছেন ইসরায়েলিরা *** বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর এ সপ্তাহে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী *** রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ৩ সেনা কর্মকর্তা *** ট্রাম্পের হুমকিতেও টলবে না স্পেন, চায় না ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ *** জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে সরকার *** বিদ্রোহী কুর্দিদের অস্ত্র দিয়ে ইরানে ‘গৃহযুদ্ধের’ পরিকল্পনা ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর *** নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলেই কি সর্বোচ্চ নেতা হচ্ছেন?

এপ্রিলে নির্বাচিত সরকার পাবে দেশ, এরপর চুপচাপ সরে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:৫৯ অপরাহ্ন, ১৮ই জুন ২০২৫

#

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের সূচনায় বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই দেশ নির্বাচিত সরকার পাবে, এবং এরপর বর্তমান সরকার চুপচাপ সরে যাবে। গত ১২ই জুন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান আরও বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও মানুষ এখনো সরকারকে শত্রু হিসেবে দেখে।

ড. ইউনূসের ভাষায়, ‘নতুন বাংলাদেশে’ বিশ্বাস আনতে হলে গ্রামের পর গ্রাম, সরকারের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি দূর করা ছাড়া উপায় নেই। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ড. ইউনূস জানান, গত জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। এখন তিনি চান, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে উঠুক—যা সাধারণ মানুষকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ মনে করেন, সরকার তাদের কোনো কিছুই দেয় না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ব্যবসার লাইসেন্স নিতে গেলে ঘুষ দিতে হয়। সরকারের সদস্যরা টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিস্তার রয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘সব সময়ই কেউ না কেউ ওত পেতে থাকেন বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। মানুষ মনে করেন, সরকার হলো তাদের চিরস্থায়ী শত্রু। এ শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করেই বাঁচতে হয়। এ শত্রু এতই শক্তিশালী যে, মানুষ তার কাছ থেকে দূরে থাকতে চায়।’

সরকারি চাকরিতে কোটার মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থীদের সুবিধা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকে আন্দোলন শুরু হলেও এর পেছনে অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল—জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও তরুণদের সুযোগের অভাব। আওয়ামী লীগপ্রধান হাসিনা ধীরে ধীরে একনায়কতান্ত্রিক হয়ে উঠেছিলেন। বিরোধীদের দমন করছিলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করছিলেন। ব্যাংকিং খাত ভেঙে পড়েছিল তার দলের লোকজনের দুর্নীতির কারণে। এলিট শ্রেণির একাংশ বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করায় সাধারণ মানুষ নিজের টাকাও তুলতে পারছিলেন না।

২০২৪ সালের সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অনেকে আশা করেছিলেন, দেশের বিষাক্ত ও দ্বন্দ্বপূর্ণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। যেখানে দুই প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বারবার ক্ষমতার জন্য মুখোমুখি হয়েছে।

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, এক বিপর্যস্ত সমাজ নিয়ে। প্রশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। আমরা জানতাম না, আমাদের বিলগুলো মেটাতে পারব কী না। বিপুল অঙ্কের সম্পদ যেন কারও মালিকানায় নেই, এমনভাবে লুটপাট করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে, কিন্তু তারা জানত এটা ঋণ নয়, উপহার—যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচনী ব্যবস্থা, দুর্নীতি আর জনকল্যাণ নিয়ে কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ড. ইউনূস এখন চেষ্টা করছেন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে। আগামী জুলাইয়ে আন্দোলনের এক বছর পূর্তির আগেই ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করতে চান তিনি, যেন এরপর এপ্রিলের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

প্রধান উপদেষ্টা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250