ছবি: সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টার পদে না থাকলেও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমান নিরাপত্তা পাচ্ছেন। 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' ঘোষণা করে তাকে এই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের জন্য এই নিরাপত্তা বহাল থাকবে। প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ানো হবে। খবর দ্য ওয়ালের।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই তার জন্য এই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এতদিন পর জানা যাচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে অর্থাৎ ১০ই ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সচিব পদমর্যাদার সাইফুল্লাহ পান্না এক নির্দেশ জারি করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে যাওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস আরও অন্তত এক বছর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন।
বাংলাদেশে এই নিরাপত্তা প্রধানমন্ত্রী পেয়ে থাকেন। এই বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাইফুল্লাহ পান্না তখন প্রধান উপদেষ্টার অফিসে কর্মরত ছিলেন।
অবসর জীবনে ড. ইউনূসকে এই বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি কি তাহলে এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন? তিনি প্রধান উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর ড. ইউনূস তার গ্রামীণের বিভিন্ন সংস্থার কাজে ফিরে যাবেন। রাজনৈতিক প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক কোনও পদে তিনি থাকবেন না। গত সপ্তাহে তিনি গ্রামীণের সদর দপ্তরের সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কাটিয়েছেন।
দ্য ওয়াল প্রতিবেদনে দাবি করে, জল্পনা আছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং আরও কয়েকটি দেশের তরফে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উপর চাপ আছে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার। এই ব্যাপারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই দাবি তুলে আসছে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির মতো দলগুলো।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ আছে ২০২৮ পর্যন্ত। সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির প্রতি অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিকবার চেষ্টা হয়েছে তাকে রাষ্ট্রপতি পথ থেকে সরাতে। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বের বাধায় ড. ইউনূস তাকে সরাতে পারেননি।
আগামী ১২ই মার্চ বাংলাদেশের নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে চলেছে। সরকারের তরফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন, প্রথা মাফিক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনের সূচনা করবেন।
যদিও একাধিক মহলের খবর, বিএনপির অভ্যন্তরেও মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার ভাবনা আছে। সংসদ অধিবেশনের পর এই ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকে দল ও সরকারের বক্তব্য জানিয়ে দেওয়া হতে পারে।
তবে কোনও কোনও মহল থেকে এমন বক্তব্যও ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের লোকজন ড. ইউনূসের উপর হামলা করতে পারেন। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারই গত বছরের ১২ই মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এর জেরে দলটি মাঠে-ময়দানে রাজনীতি করতে পারছে না। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শেখ হাসিনার দল অংশ নিতে পারেনি।
খবরটি শেয়ার করুন