বুধবার, ১৪ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাহরানে প্রবাসীর বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালট, ব্যবস্থা চায় বিএনপি *** অভ্যুত্থানের পর দেশে আট মাস যেভাবে পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** পাকিস্তানের ‘দরদ’ দেখানোর প্রয়োজন নেই, বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রসঙ্গে হামিন *** চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি পেলেন ৯ জুলাই যোদ্ধা *** যে ইস্যুতে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি *** ‘সাংবাদিকদের স্নাতক হওয়ার বাধ্যবাধকতায় সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হবে’ *** বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আসছে *** শেখ হাসিনাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করল পিবিআই *** বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর কোনো পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে নয়: ভারতীয় সেনাপ্রধান *** ইরানের সরকার স্বীকার করল নিহত ২০০০—বেসরকারি সূত্রমতে ১২০০০

১৭ মাস আগের ঘটনা মাহফুজ আনাম জানলেন দু'দিন আগে!

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২৪শে ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থান চলাকালে বিটিভি, একাত্তর টিভি, গান বাংলাসহ বেসরকারি কয়েকটি টিভি চ্যানেলের কার্যালয় ভবনে আগুন লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। ওই বছরের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দিনও একাত্তর, সময় টেলিভিশন ও এটিএন বাংলার অফিসে হামলা চালায় দুর্বৃত্তেরা। হামলার পর তারা বেশ কয়েকটি টেলিভিশন লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও এসব কার্যালয় থেকে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসামগ্রী নিয়ে যায়।

একইদিন হামলা চালানো হয় এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের কারওয়ান বাজারের প্রধান কার্যালয়ে। এ সময় এই দুই চ্যানেলের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর করে ও আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ অবস্থায় এটিএন নিউজের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায় কয়েক ঘণ্টার জন্য। ঢাকার রামপুরায় বিটিভি ভবনে ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই আগুন দেন আন্দোলনকারীরা।

বিটিভি ভবনে আগুন দেওয়ার বিষয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকার ইংরেজি ও বাংলা ডিজিটাল সংস্করণে ওই দিনই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির ওই প্রতিবেদনে বিটিভির ওই সময়ের মহাব্যবস্থাপক মাহফুজা আক্তারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনা এতদিন জানতেন না ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ১৬-১৭ মাস আগের ঘটনা তিনি জেনেছেন মাত্র দু'দিন আগে। যা তিনি নিজেই দাবি করেছেন।

গত রোববার, ২১শে ডিসেম্বর বিএনপির আয়োজিত সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে মাহফুজ আনাম  ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বাংলাদেশে এই ধরনের প্রথম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিএনপির অনুষ্ঠানে দলটির প্রশংসা করে ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, 'বাংলাদেশের ৫৩ বছরের বয়সে কখনো কোনো মিডিয়া অফিসে আগুন দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে আগুন জ্বালানো হয়েছে। কেন? আমরা কী অপরাধ করেছি? এটা সমস্ত মিডিয়ার প্রশ্ন করা উচিত।'

তার এমন দাবি নিয়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাহফুজ আনাম মঙ্গলবার (২৩শে ডিসেম্বর) ডেইলি স্টারে সংশোধনী প্রকাশ করেন। এতে তিনি বলেন, 'গত ২১শে ডিসেম্বর বিএনপির আয়োজিত সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে আমি ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বাংলাদেশে এই ধরনের প্রথম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম।'

তিনি বলেন, এরপর আমার নজরে এসেছে যে, অতীতে সংবাদমাধ্যমে অগ্নিসংযোগের আরও ঘটনা ঘটেছে—যদিও সেখানে এতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বা জীবন ও সম্পত্তির জন্য এতটা হুমকি তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, তথাপি, আমি আমার ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং এই সংশোধনী নোটটি আমাদের অনলাইনে প্রচারিত প্রতিবেদনের সঙ্গেও সংযুক্ত করা হবে।

মাহফুজ আনামের 'সংশোধনী' শিরোনামে দুঃখ প্রকাশের পর এ নিয়ে নেটিজেনেরা নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক করছেন। তারা বলছেন, ২১শে ডিসেম্বর বক্তব্যে মিথ্যা বলার পর দু'দিন পর সংশোধনী। অর্থাৎ, ১৬-১৭ মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তিনি জেনেছেন মাত্র দু'দিন আগে।

নেটিজেনদের প্রশ্ন, তিনি কি শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনের ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে পাঠককে ভুলিয়ে দিতে চান? সেজন্যই বক্তব্য ও সংশোধনীতে ওই আন্দোলন চলাকালে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাগুলো এড়িয়ে গেলেন? 

গত বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতীয় অনেক গণমাধ্যম দলটিকে নানা ইস্যুতে একচেটিয়া সমর্থন করে আসছে। বিষয়টির কৌশলে সমালোচনা করে গত বছরের নভেম্বরে ডেইলি স্টারের এক উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম ভারতীয় গণমাধ্যমকে মিথ্যাচার না করতে পরামর্শ দেন। ওই লেখায় তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোকে হিন্দুত্ববাদী ও ইসলামবিদ্বেষী বলেও ব্যাখ্যা করেন। এটাও ঠিক, ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম তখন বাংলাদেশ বিষয়ে ভুল তথ্যও প্রচার করেছে।

মাহফুজ আনামের ওই উপসম্পাদকীয়ের লিংক শেয়ার করে অনেকে এখন তার সমালোচনা করছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিক সঞ্জয় দে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া পোস্টে বলেন, 'এটা (মাহফুজ আনামের) আরেকটি নির্জলা মিথ্যাচার। তিনি দাবি করছেন, দুই দিন আগের বিতর্কিত বক্তব্যটি 'দেওয়ার পর' জানতে পারেন, আগেও গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে!

তিনি বলেন, ভাবা যায়, এসব ব্যক্তিত্বই আমাদের দেশের সাংবাদিকতা জগতের নাকি 'উজ্জ্বল নক্ষত্র'! কথায় কথায় তারা পাশের দেশের সাংবাদিকতার 'নিম্নমান' নিয়ে হাসিঠাট্টা করেন। অথচ নিজ দেশে একযোগে কয়েকটি গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুনের খবর জানতেই ১৬ মাস লেগে যায়। তাও আবার জানতে পারেন স্যোশাল মিডিয়ার তোপের মুখে!

সাংবাদিক সঞ্জয় দে বলেন, তিনি (মাহফুজ আনাম) এই 'সংশোধনীতে' নিজেদের 'শ্রেষ্ঠত্বের' দাবি তুলতেও ভুলে যাননি। সেটি হলো 'ভিক্টিম হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব'। যিনি এতদিন কোনো খবরই রাখেননি, তিনি কী করে জেনে গেলেন আগের হামলাগুলোর সময়ে এখনকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বা জীবন ও সম্পদের এতটা হুমকি ছিল না!

তিনি বলেন, তিনি কি তখনকার এবং এখনকার আক্রান্ত সংবাদকর্মীর সংখ্যা গুণে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন? ডেইলি স্টারের কম্পিউটারগুলো ব্র্যান্ডের, ক্যান্টিনে আইসক্রিম আছে, ফার্নিচার বিদেশি, স্টুডিও জমকালো- এসব বিবেচনায় নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ঝুরঝুরে সরঞ্জামের ধ্বংসকে 'অল্প ক্ষতি' হিসেবে গণ্য করতে বলছেন?

তিনি লেখেন, মাত্র দেড় বছর আগে ঢাকার অনেক সংবাদপ্রতিষ্ঠানের বহু কর্মী সাক্ষাৎ মৃত্যু দর্শন করেছেন, ঠিক যেমন ১৯শে ডিসেম্বর রাতে ডেইলি স্টারের অনেক কর্মীও করেছেন। ১৬ মাস আগে-পরের ঘটনার মধ্যে তফাৎ হলো- সে সময় প্রাণসংশয়ে পড়া কর্মীদের পাশে কেউ দাঁড়াননি। সম্পাদক পরিষদের নেতা দূরের কথা, পুলিশ-দমকলও ছিল না।

তিনি বলেন, মাহফুজ আনামেরা তখন নতুন সরকারের পথনকশা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, সেজন্যই সম্ভবত সেসব খবর পাননি বা নেওয়া হয়নি। তাই এতদিন পর তিনি একটি মিথ্যা ঢাকতে গিয়ে সেসময়ের বিপন্ন অসংখ্য সংবাদকর্মীকে নিয়ে ভয়ঙ্কর নতুন তামাশা করলেন।

মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250