ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর ১-এ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতেই নির্ধারণ হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে স্থাপনা ভেঙে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত।
আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তির টিএন্ডটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটা এনজিও পরিচালিত একটা মাতৃসেবাকেন্দ্র ছিল। এটার মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশে সমস্যা থাকতে পারে, তার মানে এই না যে রাতের অন্ধকারে এভাবে কেউ ভেঙে ফেলবে। এটা অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটার মালিকানা নিয়ে যা গন্ডগোল আছে, সেটা কোর্টে নির্ধারিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর পূর্ব পর্যন্ত যাতে আমাদের টিকাদান কর্মসূচিটা চালু থাকে, সেই ব্যবস্থা করব। পুলিশ সেটা দেখভাল করবে। ভবিষ্যতে যেন এটা নিয়ে আর কোনো ধরনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি কেউ না করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট ব্যবস্থা নেব।’
এদিকে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি নিজে পুলিশের ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি। ডিসি সাহেব বলেছেন, মামলা রুজু করেছি, আমরা তদন্ত করছি এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে যারা এটার সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি নির্দেশনা দিয়েছি, সে যে-ই হোক না কেন, এই ধরনের ঘটনা রাতের অন্ধকারে দখলদারত্বের মতো—এটা এই সরকার চায় না। আমরা নিজেরাও চাই না। তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
ভাঙচুরের পর টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা যাবে কি না, জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, সেখানে ইতিমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেওয়া হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা, তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
খবরটি শেয়ার করুন