ফাইল ছবি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে তার দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি টেলিছবি ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’ আজ শনিবার কলকাতায় প্রদর্শিত হবে। শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ছয় দিনের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই টেলিছবির প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, কলকাতার সল্টলেকে উন্নয়ন ভবনের মহানায়ক মঞ্চে সন্ধ্যায় প্রায় ৫০ মিনিটের ছবিটি দেখানো হবে।
ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন মন্ট্রিয়েল-প্রবাসী সহিদ রাহমান। গত প্রায় এক বছর ধরে কলকাতায় ছবিটির শুটিং হয়েছে। নির্মাতাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক পথচলার পাশাপাশি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল, সেই ঘটনাক্রমও ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। সহিদ রাহমান আনন্দবাজারকে বলেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক ছবি নয়; বরং শেখ হাসিনার জীবনসংগ্রাম এবং দেশত্যাগের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্র বর্তমান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকেই ছবিটির অন্যতম বিষয় করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ছবিটিকে ৫০ মিনিটের তথ্যচিত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবিটি মম প্রযোজিত এবং ফ্রেম ফ্যাক্টরি নিবেদিত বলে জানানো হয়েছে। বর্তমান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের প্রদর্শনীতে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে ছয় দিনের কর্মসূচি নিয়েছেন বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিস ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। গত বুধবার কলকাতায় আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে তারা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের দাবি, তারা যে যে দেশে বসবাস করেন, সেসব দেশের প্রশাসন ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।
টেলিছবিটির সঙ্গে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও দেশে ফেরার বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই সময়-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটির নির্মাতা সহিদ রহমান এবং কলকাতায় জড়ো হওয়া কয়েক প্রবাসী বাংলাদেশি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। তবে তাদের এই প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এই সময়-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সহিদ রহমান কানাডার মন্ট্রিয়েলে বসবাস করেন এবং গান, আবৃত্তি ও তথ্যচিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। ওই প্রতিবেদনে তাকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার নিজস্ব ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য নির্মাতার রাজনৈতিক অবস্থান ও মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে; এগুলো টেলিছবিতে উপস্থাপিত দৃষ্টিভঙ্গির অংশ বলেই প্রতীয়মান হয়।
ছবিটির নাম ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’। এই নামটি শেখ হাসিনার নিজের একটি বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গেও যুক্ত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঢাকায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’, এবং সেই বক্তব্যের সংবাদ প্রকাশ করেছিল দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম। ফলে নতুন টেলিছবিটির নামের মধ্যেও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিচয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে তার আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন রয়েছে।
তবে ছবিটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছাড়েন এবং পরে ভারতে অবস্থান নেন। তার দেশত্যাগের কারণ, ওই সময়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। নতুন টেলিছবিতে সেই সময়ের ঘটনাগুলোকে নির্মাতারা কীভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেটিই আজকের প্রদর্শনীতে বিশেষভাবে সামনে আসতে পারে।
আনন্দবাজারকে দেওয়া বক্তব্যে পরিচালক সহিদ রাহমান বলেছেন, ছবিতে কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল, তা তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ ছবিটির কেন্দ্রীয় প্রশ্নগুলোর একটি হলো—২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কী ঘটেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়েন। তবে এই প্রশ্নের উত্তর ছবিতে নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দেওয়া হবে।
ছবিটির সঙ্গে যুক্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার হোসেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। একইভাবে এই সময়-এর প্রতিবেদনে কয়েক প্রবাসী বাংলাদেশির বক্তব্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রস্তুতির কথা এসেছে। এগুলো তাদের ঘোষিত পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক বক্তব্য; বাস্তবে তা কীভাবে বা কখন বাস্তবায়ন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর। সেই উপলক্ষে কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ কলকাতায় ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে টেলিছবিটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশও হচ্ছে। পরে নয়াদিল্লিতেও ছবিটি দেখানোর কথা রয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’ কেবল শেখ হাসিনার জীবনীভিত্তিক একটি ছবি হিসেবে নয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তার দেশত্যাগের ঘটনাকে একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তুলে ধরার নির্মাণ হিসেবেও সামনে আসছে। আজকের প্রদর্শনীতে সেই ব্যাখ্যাই কতটা গুরুত্ব পায় এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকে নির্মাতারা কীভাবে পর্দায় তুলে ধরেন, সেটিই এই টেলিছবিকে ঘিরে মূল আগ্রহের বিষয়।
খবরটি শেয়ার করুন