বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কওমি মাদ্রাসায় নির্যাতন ঠেকাতে সুরক্ষা কমিটি ও হটলাইন চালুসহ যেসব নির্দেশনা *** জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী *** জামায়াতকে ‘লংমার্চ’ স্থগিতের অনুরোধ শাহবাজের, দিলেন যে প্রস্তাব *** ‘শেখ হাসিনা কেন এখনো এনডিটিভির চোখে প্রধানমন্ত্রী’ *** গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত পুলিশের ব্যবস্থা দেখে *** এত কিছুর পরেও গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থাকে কীভাবে: টিআইবি *** ঋণ পরিশোধ না করায় মেসির নতুন ক্লাবের শেয়ার জব্দ *** লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব *** বর্তমান সরকারের জন্য এয়ারবাস হলো ‘পরীক্ষা’: ফরাসি রাষ্ট্রদূত *** আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার করার সিদ্ধান্তে সম্মতি ভারতের

এবার অণ্ডকোষে চাপ নয়, বালু ব্যবসায়ীর কানে বিএনপি নেতার কামড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:৩০ অপরাহ্ন, ১৪ই জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কানে কামড় দিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনকে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত নেতা তার কানে কামড় দিলে রক্তাক্ত জখম হয় এবং পরে সেখানে চারটি সেলাই দিতে হয়।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে বরিশালে চেকে স্বাক্ষর আদায়ের জন্য এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একজন ব্যক্তির অণ্ডকোষ চেপে ধরার অভিযোগও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দুটি ঘটনাই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহিংস আচরণের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার, ১৩ জুলাই, বিকেলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে।

আহত সাখাওয়াত হোসেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, তার কানে চারটি সেলাই লেগেছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন আজ মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে জানান, ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুটমিলের অভ্যন্তরে টিকে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বালু ভরাটের কাজ করছিলেন তিনি। এ কাজে ব্যবহারের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে একটি ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছিল। সোমবার বিকেলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে তিনি মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। এ সময় চারজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তার পথরোধ করেন। পরে জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে।

সাখাওয়াতের ভাষ্য, সেখানে তাকে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ আরও ছয় থেকে সাতজন তাকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা তাকে প্রশ্ন করেন, কেন তাকে না জানিয়ে ওই এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি সাখাওয়াতের কানে কামড় দেন। এতে কান থেকে রক্ত বের হতে থাকে। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সাখাওয়াত পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে তার কানের ক্ষতস্থানে চারটি সেলাই দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা শরীরের অন্যান্য আঘাতেরও চিকিৎসা দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, “বিকেলে প্রোগ্রাম রয়েছে। আমি এখন ঘুমিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে ভিডিও বক্তব্যে সত্য-মিথ্যা সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন সুখবর ডটকমকে বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরসিংদীর এই ঘটনার আগে বরিশালেও বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের একটি ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। গত ৬ জুলাই বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের চেকে স্বাক্ষর আদায়ের জন্য একজন ব্যক্তিকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে জোর করে চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে মারধরের পাশাপাশি তার অণ্ডকোষ চেপে ধরা হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ও তার সহযোগীরা। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং বিএনপিও অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে খোঁজ নেওয়ার কথা জানায়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বরিশালের অণ্ডকোষ চেপে ধরার অভিযোগ এবং নরসিংদীতে কানে কামড় দেওয়ার অভিযোগ—দুটি ঘটনাই রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার ও সহিংসতার অভিযোগকে সামনে নিয়ে এসেছে। এসব ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নরসিংদীর ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আহত সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপি নেতা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250