বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু বেড়ে ৫, সংক্রমিত প্রায় হাজার *** পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নতুন নাম ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’ *** নেপালে ফের ভূমিধস, পাহাড় থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার পর্যটকদের *** ভারতীয় পাসপোর্ট–নথি থাকার পরও বাংলাভাষী মুসলিমকে ‘বাংলাদেশে পাঠিয়েছে’ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ *** যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র *** ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী *** বাংলাদেশি পাটপণ্যে শুল্ক আরও বাড়াল ভারত, আরও শুল্কের পরিকল্পনা *** গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু, নিহত ছাড়িয়েছে ৭৪০০০ *** ক্রিস্টেনসেন কেন দিল্লিতে, রুবিও কেন যুক্ত হলেন—নেপথ্যে কোন সমীকরণ

নেপালে ফের ভূমিধস, পাহাড় থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার পর্যটকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

#

অন্নপূর্ণা সার্কিটে থাকা শত শত ট্রেকার বা পর্বতারোহীকে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে ফিরতে হয়েছে। ছবি: জ্যাক স্টোরি

নেপালে আবারও ভারী বৃষ্টি ও একের পর এক ভূমিধসে প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেনি হিমালয়ঘেরা দেশটি। ওই বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে নতুন করে সৃষ্ট দুর্যোগে ১ হাজার ৯০০টির বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৪০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে সড়ক, ভবন ও সেতু।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অন্নপূর্ণা সার্কিটে থাকা শত শত ট্রেকার বা পর্বতারোহীকে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে। মানাং ও মুস্তাং জেলা থেকে তাদের অনেককে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্নপূর্ণা সার্কিটের এই পথ পায়ে হেঁটে শেষ করতে সাধারণত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে।

কয়েকজন ট্রেকার ও গাইড জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে ফিরে আসার পথ ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাদের কারও কারও তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত সময় লেগেছে। এ সময় তাদের ধসে পড়া সড়ক ও ভেসে যাওয়া সেতু পার হতে হয়েছে।

সাফোকের ২১ বছর বয়সী জেক স্টেসি গত সপ্তাহে ভারী তুষারপাতের কারণে উচ্চ মানাংয়ের ইয়াক খারকায় তার গাইডসহ আটকা পড়েছিলেন। এরপর তিনি সার্কিটের সর্বোচ্চ স্থান থোরাং লা পাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

মঙ্গলবার রাতে পোখারার বেস ক্যাম্পে ফিরে স্টেসি বলেন, ‘আমরা পাহাড়ের ঢালে নিজেদের পথ তৈরি করে নিয়েছিলাম। জায়গাটি বেশ খাড়া ছিল। নিচে নদী থাকায় আমাদের অনেকটা আঁকড়ে আঁকড়ে এগোতে হয়েছে। খুব কাদাময় ও ভেজা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ট্রেকারকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু গ্রাহাম ও তার গাইড প্রেম কেসি জানান, মানাং গ্রাম থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের ১৫ টির বেশি ভূমিধসের এলাকা পার হতে হয়েছে। গ্রাহাম বলেন, ‘এর মধ্যে কয়েকটি বেশ বিপজ্জনক ছিল। এখন ঝুঁকি আরও বেড়েছে।’

চামে গ্রামে পৌঁছানোর পর তারা আটকা পড়েন। ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে গ্রামটি তখন খালি করে দেওয়া হয়েছিল। বাধ্য হয়ে তাদের এক রাত জঙ্গলে কাটাতে হয়েছে বলে জানান গ্রাহাম।

একটি বিশাল ভূমিধসে চামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি নদীর প্রবাহ আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সাময়িক একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেই পানিতে কয়েকটি বাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু ডুবে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে খননযন্ত্র ব্যবহার করে পানি সরানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে তাতে খুব একটা সফলতা আসেনি।

এদিকে ট্রেকিং গাইড সে রিং দোমা জানিয়েছেন, তাকে ও তার দলের সদস্যদের ২৮টি ভূমিধসের এলাকা পার হতে হয়েছে। তার মতে, শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক চাপ ছিল বেশি। কারণ, গত মাসের ভয়াবহ দুর্যোগের স্মৃতি তখনো তাজা।

সে রিং দোমা বলেন, ‘বজ্রের শব্দও আমাদের দৌড়াতে বাধ্য করত। আমরা বাইরে বেরিয়ে দেখতাম, আমাদের দিকে কিছু ধেয়ে আসছে কি না।’

তার সঙ্গে থাকা নরওয়ের পর্যটক এলেন ভলস্ট্রোম জানান, পর্যটকেরা তুলনামূলকভাবে ভাগ্যবান। তাদের শুধু কিছু জিনিসপত্র ফেলে যেতে হতে পারে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি ও জমি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ অনেকগুলো ভূমিধসের জায়গা ‘আশ্চর্যজনক দ্রুততায়’ পরিষ্কার করছে।

মানাংয়ে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি গুরুতর। কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে এবং কিছু এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ট্রেকিং এলাকাটিতে এখন পর্যন্ত কেউ নিহত হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার প্রধান কর্মকর্তা মুক্তি প্রসাদ খানাল।

অন্যদিকে তিব্বতের সীমান্তের কাছে হিমলুং শৃঙ্গের পাদদেশে তুষারধসে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় ট্রেকিং কর্তৃপক্ষ অন্নপূর্ণা কনজারভেশন এরিয়া প্রজেক্টের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা সার্কিটে যাওয়ার অপেক্ষায় এখনো প্রায় ৭০০ ট্রেকার পোখারায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেকে যেতে চান, এমন সব মানুষকে আমরা আটকে রেখেছি। যদিও ট্রেকিং শিল্পের পক্ষ থেকে রুটটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিতে আমাদের ওপর চাপ রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, হিন্দু তীর্থযাত্রায় প্রাচীন মুক্তিনাথ মন্দিরে যাওয়া ভারতীয় দর্শনার্থীদের সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জোমসন থেকে গাড়িতে না গিয়ে বিমানে পোখারা যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক নির্মাণের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্নপূর্ণা সার্কিটের পুরোনো ট্রেকিং পথগুলোর বেশির ভাগই আর ব্যবহার করা হয় না। তবে মানাং ও মুস্তাং জেলার কিছু ছোট এলাকায় এখনো এসব পথ ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু এখন ট্রেকিং পরিচালনাকারীরা বলছেন, সার্কিটের কিছু অংশে প্রধান সড়কগুলো ভেসে যাওয়ায় অনেক ট্রেকার ফিরে আসার জন্য এসব পরিত্যক্ত পুরোনো পথ ব্যবহার করছেন।

নেপাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ১২:১৪ অপরাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু বেড়ে ৫, সংক্রমিত প্রায় হাজার

🕒 প্রকাশ: ১২:০৬ অপরাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নতুন নাম ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

নেপালে ফের ভূমিধস, পাহাড় থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার পর্যটকদের

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

ভারতীয় পাসপোর্ট–নথি থাকার পরও বাংলাভাষী মুসলিমকে ‘বাংলাদেশে পাঠিয়েছে’ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

🕒 প্রকাশ: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

Footer Up 970x250