শনিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঢামেকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ আসিফ নজরুল, বেরোলেন বাগান গেট দিয়ে *** কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএসপিআরের বক্তব্য *** আসিফ নজরুলকে 'ভণ্ডামি বাদ দিতে' বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ *** অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে জেল ও জরিমানা *** মুরগি খাওয়া রোধে পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল মেছো বাঘ *** আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সময় তাহলে ফুরিয়ে এল *** লতিফ সিদ্দিকী যা বললেন আদালতে *** ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান *** আটকের ১২ ঘণ্টা পর মামলা লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক কার্জনসহ ১৬ জন কারাগারে *** নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জুতার মালা ও জেলের কথা মনে করিয়ে দিলেন ইসি

শুভ জন্মদিন

নারী মুক্তির আলোকবর্তিকা কবি সুফিয়া কামাল

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০২:২০ পূর্বাহ্ন, ২০শে জুন ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

নারীমুক্তি, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার অনন্য আলোকবর্তিকা কবি সুফিয়া কামাল। জননী সাহসিকা ও দেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। আজ শুক্রবার, ২০শে জুন বাঙালির এ মহিয়সী নারীর  জন্মদিন। ১৯১১ সালের এ তারিখে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার (বর্তমান বরিশাল) শায়েস্তাবাদে জন্ম নেন তিনি। জন্মের পর তিনি মামাবাড়িতেই বেড়ে ওঠেন।

সুফিয়া কামাল তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি। তখনকার পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবেশে বাস করেও তিনি নিজ চেষ্টায় হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত। বাড়িতে উর্দুর চল থাকলেও নিজেই বাংলা ভাষা শিখে নেন। পর্দার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন একজন আধুনিক মানুষ।

জাতীয় সব সংকটে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক বিবেকের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক শাসনের গণবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে, রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে, রবীন্দ্রশতবর্ষ উদ্‌যাপনের দাবিতে, দাঙ্গা প্রতিরোধে তিনি একাধারে ছায়ানট, কচি-কাঁচার মেলা, পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংসদ প্রতিষ্ঠা ও নারী আন্দোলনের মহিলা সংগ্রাম পরিষদ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

'নারী মুক্তি মানেই মানব মুক্তি’ এই ছিল সুফিয়া কামালের জীবনের বীজমন্ত্র। তিনি নিজেকে মেলে ধরেছিলেন সমাজের বিবেক হিসেবে। সামাজিক সাম্য, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সব ধর্মের স্বাধীনতার ওপর বরাবরই জোর দিয়েছেন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের বাসায় বন্দী জীবন-যাপন করেছেন। কিন্তু তিনি শুধু বসে থাকেননি, যুদ্ধকালের সেই বন্দী জীবনের যাতনা প্রতিদিন লিখে গেছেন গোপন খাতায়। তার এ স্মৃতিচারণের কথা ‘একাত্তরের ডায়েরি’ নামে প্রকাশিত হয়েছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নির্যাতিতা, ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মা-বোনদের পাশে থেকেছেন। 

সুফিয়া কামাল সমাজ ও সংস্কৃতি বিনির্মাণে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছেন। বেগম রোকেয়া যেমন বলেছেন নিজের মুক্তির জন্য প্রয়োজন সমাজের মুক্তি, সুফিয়া কামাল তেমনি সমাজের মুক্তির মধ্যেই নিজের মুক্তি খুঁজেছেন। যে পথ তিনি দেখিয়েছেন, সেই পথ অনুসরণীয়।

তিনি আজীবন সাহিত্য সাধনা এবং একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নারী আন্দোলন ও সংগঠনে আমৃত্যু কাজ করেছেন। আজ যে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তাকে প্রতিহত করতে কবি সুফিয়া কামালের আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে। জন্মদিনে নারী মুক্তির  এ আলোকবর্তিকার  প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

কবি সুফিয়া কামাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন