শনিবার, ২৯শে নভেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরাতে সরকার অনুরোধ করেনি: প্রেস উইং *** মধ্যরাতে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছে বিএনপি *** জালিম একই আছে, লেবাস বদলেছে: সৈয়দ জামিল আহমেদ *** বাউলদের বিরুদ্ধে 'তৌহিদী জনতাকে' বিদেশি শক্তি মাঠে নামাচ্ছে: ফরহাদ মজহার *** হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খবর নিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা *** প্রধান উপদেষ্টার প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা *** কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন *** রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির *** আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনে 'বিদেশ থেকে খেলা চলছে', দাবি সজীব ওয়াজেদের *** প্রতিদিন শত শত ছবি দেখে মাহফুজ আনামের পর্যবেক্ষণ ও অনুভূতি

এক এগারোয় খালেদা জিয়া আপস করেননি, শেখ হাসিনা করেছেন

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, ১৪ই নভেম্বর ২০২৫

#

ফাইল ছবি

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এক এগারোর জরুরি অবস্থার তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন আপস করেছিলেন। বিএনপির রাজনীতির যারা কট্টর সমালোচক, তারাও খালেদা জিয়াকে সম্মানের চোখে দেখেন। এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান।

তিনি মনে করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ২৩৬টি সংসদীয় আসনে প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে, তাতে সবচেয়ে বড় চমক হলো দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসন রাখা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যতগুলো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সব কটিতেই বিপুল ভোটে জিতেছেন। কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা ব্যতিক্রম ঘটনা। স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা সবাই স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, এর প্রধান কারণ হলো দলের ভেতরে ও বাইরে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভাবমূর্তি। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি পুরোপুরি সফল, এটা বলা যাবে না। কিন্তু স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা সবাই স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দুটি ও ২০০১ সালে একটি আসনে পরাজিত হন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯১ সালে জেলে থেকে পাঁচটি আসনে জিতলেও ২০১৪ সালে একটি আসনে পরাজিত হন। দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে সোহরাব হাসান এসব কথা বলেন।

'খালেদা জিয়াতেই কেন বিএনপির ভরসা' শিরোনামে গত ১২ই নভেম্বর প্রকাশিত ওই কলামে সোহরাব হাসান লেখেন, 'আমরা লেখক–গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের এক–এগারো: ২০০৭-২০০৮ বই থেকে জানতে পারি, তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা নিরাপদ প্রস্থানের জন্য দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া সে প্রস্তাবে রাজি হননি। তার প্রতিপক্ষ রাজি হয়েছিল। এসব ঘটনাও তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।'

তিনি বলেন, এবার বিএনপির নেতৃত্ব মূলত খালেদা জিয়ার ভাবমূর্তিকে সম্বল করেই নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে চাইছে। তারা মনে করছে, খালেদা জিয়া নিজে নির্বাচনী প্রচার চালাতে না পারলেও তার নাম ও নির্বাচনে অংশগ্রহণই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপির রাজনীতির যারা কট্টর সমালোচক, তারাও খালেদা জিয়াকে সম্মানের চোখে দেখেন।

তিনি বলেন, তিনটি আসনে বিএনপি খালেদা জিয়াকে মনোনয়ন দিয়ে এটাই প্রমাণ করেছে যে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থেকেও অনেক বেশি সক্রিয়া ভোটারদের মনে। তার নামই দলকে এগিয়ে নেবে, তার ভাবমূর্তিই বিজয় ছিনিয়ে আনবে, এটাই বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারণা।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সক্রিয় রাজনীতিতে আছেন, এটাও বলা যাবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সাত বছর তিনি কখনো কারাগারে, কখনো হাসপাতালে ও গৃহে অন্তরিণ ছিলেন। দলের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর ক্রমাগত দাবি জানানো হলেও তৎকালীন সরকার (শেখ হাসিনার সরকার) গ্রাহ্য করেনি। এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ খালেদা জিয়ার আসনে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে এটি সংগতিপূর্ণ না হলেও একজন নেতা বা নেত্রীর প্রতি এ সম্মান প্রদর্শনেরও মূল্য আছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনেরা যেভাবে খালেদা জিয়াকে গালাগাল করেছেন, বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন, তাতে তার প্রতি সাধারণ মানুষের সমীহ আরও বেড়েছে। একজন অসুস্থ মানুষকে নিয়ে পরিহাস করাকেও কেউ ভালো চোখে দেখেননি। আমাদের মতো দেশে ক্ষমতায় থাকতে নেতা–নেত্রীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করা কঠিন। এক দল নেতা-কর্মী সব সময় বন্দনা করতে থাকেন। তদুপরি রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র তো আছেই মহিমা প্রচারের জন্য। নেতা-নেত্রীদের প্রকৃত জনপ্রিয়তা যাচাই হয় যখন তারা বিরোধী দলে থাকেন। খালেদা জিয়া সেটা পেরেছেন ধারণা করি।

তিনি লেখেন, প্রয়াত এরশাদের শাসনামলে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই নেত্রীর ১৫০‍+১৫০ আসনের ফর্মুলা দেন। এরপর নির্বাচন কমিশন পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত করে দেয়। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। অতীতে এই সংখ্যা ছিল পাঁচ।

খালেদা জিয়া সোহরাব হাসান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250