বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’ *** মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে *** নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র, খোঁজ-খবর রাখবে *** ‘প্রধান উপদেষ্টা ব্যস্ত, তাই ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠিয়েছেন’ *** ‘একজন সাংবাদিক জেলখানায় আছে, অথচ কেউ কিছু লেখেননি’ *** রোনালদো কি ৩৬৩ কোটি টাকার বিলাসবহুল ‘রিটায়ার্ড হোম’ বিক্রি করে দিচ্ছেন

বেসরকারি খাতে যাচ্ছে টেলিটক, বিটিসিএল ও টেশিস!

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৫৮ অপরাহ্ন, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪

#

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

বছরের পর পর লোকসান গোনার কারণে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে টেলিটক, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এবং টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে (টেশিস)।

সরকারি এই তিন প্রতিষ্ঠানকে অবশ্য আগামী ৩০শে জুনের মধ্যে লাভে ফিরতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। লোকসান চক্রে পড়ে যাওয়া শিল্পগুলোকে বাঁচানোর জন্য বেসরকারিকরণই এই মূহুর্তে সবচেয়ে উপযুক্ত উপায় বলে মনে করছে সরকার।

টেলিটক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র বলছে, সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা টেলিটক গত ২০ বছরে লোকসান গুনেছে ১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। তরঙ্গ ও লাইসেন্স ফি বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ১ হাজার ৮৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা পাওনা বিটিআরসির। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে টেলিটকের মোট ব্যয় ছিল ৭৪৯ কোটি টাকা এবং তারা লোকসান গুনেছে ২৪৭ কোটি টাকা।

আরো পড়ুন: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্যাটেলাইট আসছে : পলক 

বিটিসিএলের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে টানা ১৫ বছর লোকসান গুনেছে বিটিসিএল। লোকসানের ধারা এখনো অব্যাহত আছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের মোট ব্যয় প্রায় ৮৮৮ কোটি টাকা এবং তাদের লোকসান হয় ১৪৬ কোটি টাকা। বর্তমানে গ্রাহকদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির মোট পাওনার পরিমাণ ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এগুলো আদায় নাও হতে পারে। বর্তমানে বিটিসিএলের কাছে আয়ের অংশ ও বিভিন্ন ফি বাবদ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পায় বিটিআরসিও।

এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎসে কোনো লাভ নেই; শুধু লোকসান রয়েছে। সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

১৯৭৩ সালে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১৪ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠে টেলিফোন শিল্প সংস্থা। এখানে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যৌথভাবে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন করে সিমেন্স। এর মধ্যে ২০০৪ সালে বড় অংকের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসে স্যামসাং। তবে টেশিসের অব্যবস্থাপনা ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে দুটি ব্র্যান্ডই চলে গেছে। এমনকি সম্প্রতি টেশিস পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের প্রতারণার শিকার হন খোদ প্রতিমন্ত্রী।

টেশিসের অব্যবস্থাপনা নিয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, টেশিসে নজরদারি ও জবাবদিহিতা ছিল না। তারপরেই ধীরে ধীরে টেশিসের লাভ কমতে থাকে এবং তারা এফডিআর ভেঙে ভেঙে বেতন খাওয়া শুরু করে।

অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে লোকসানে পড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে আর বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না সরকার। সেজন্য টেলিটক, বিটিসিএল ও টেশিসকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, টেলিটক, বিটিসিএল ও টেশিস- এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যালুয়েশন করতে হবে। এ বিষয়টি আগামী বোর্ড মিটিংয়ে উত্থাপনের জন্য আমি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দিয়েছি। এই কোম্পানিগুলোকে লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করার জন্য আমরা একদিকে দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাই; পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও।

উল্লেখ্য,সাশ্রয়ী প্যাকেজ দিয়ে গ্রাহকদের মাঝে সাড়া ফেলে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে টেলিটক। অপারেটর হিসেবে সরকারি এ কোম্পানিই প্রথম দেশে থ্রিজি ও ফাইভ-জি সেবা চালু করে।

এইচআ/ আই. কে. জে/  


জুনাইদ আহমেদ পলক বেসরকারি খাত লোকসান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250