ফাইল ছবি। ভিডিও থেকে নেওয়া
‘ডিপ স্টেট’ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ওই সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি বলেও জানান তিনি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এই দাবি করেন।
এদিকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে রাজসাক্ষী করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম এ আজিজ। তার মতে, আসিফ মাহমুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’–সংক্রান্ত নানা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে এবং এর পেছনে কারা কাজ করেছে, তা স্পষ্ট হবে।
সম্প্রতি সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব-ভিত্তিক চ্যানেল মানচিত্রের আলোচনায় অংশ নিয়ে এম এ আজিজ এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ‘ডিপ স্টেট’ কী, কার পরামর্শে এবং কীভাবে কাজ করেছে—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এম এ আজিজের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অনেকেই বিষয়টিকে তাত্ত্বিক বা রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখলেও এর বাস্তব প্রভাব থাকতে পারে। তার দাবি, দেশের ভেতরে যেভাবে কিছু নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করলে ডিপ স্টেটের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আলোচনায় তিনি আরও বলেন, যদি জুলাই সনদকে অবৈধ ধরা হয়, তাহলে সেই প্রেক্ষাপটে গঠিত সরকারও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে রাজসাক্ষী এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের আসামি হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি সামনে আসতে পারে। তার ভাষায়, “যে সব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো কার প্রভাব বা পরামর্শে হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।”
ডিপ স্টেট প্রসঙ্গে এম এ আজিজ বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করে না। বরং এটি বহির্বিশ্বের প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তার ব্যাখ্যায়, ডিপ স্টেট বলতে সাধারণত রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা ও নীতিনির্ধারণী একটি অদৃশ্য কাঠামোকে বোঝায়, যা আনুষ্ঠানিক সরকারের বাইরে থেকেও সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে পারে।
তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই কাঠামো সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এম এ আজিজের দাবি, আসিফ মাহমুদের সাম্প্রতিক বক্তব্য—যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার প্রসঙ্গ এসেছে—তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। তিনি বলেন, “তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সেটাও পরিষ্কার হবে।”
একই সঙ্গে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। এম এ আজিজের ভাষ্য, “অনেক আগে থেকেই তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার ছিল।” তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর প্রমাণিত না হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো দরকার।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাবেক সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ভবিষ্যৎ সরকার—বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এই দায় বর্তাবে।
সবশেষে এম এ আজিজ বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। “দোষী হলে বিচার হবে, দোষী না হলে বিচার হবে না—এটাই হওয়া উচিত,” বলেন তিনি।
তবে তার এসব বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমতও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য বিষয়।
খবরটি শেয়ার করুন