শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২০শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঈদ ঘিরে জমজমাট রাজনীতি *** ব্যাংককে অধ্যাপক ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ *** 'কী কথা তাহার সাথে?' *** বিশ্ববাণিজ্যে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন *** আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা *** চাকরিপ্রার্থী না হয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার *** যারা 'ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ' চান, তাদের উদ্দেশ্যে যা বললেন ডেভিড বার্গম্যান *** আমেরিকা থেকে আমদানি পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ: প্রেস সচিব *** বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল আমেরিকা *** বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা

মা-মেয়ের

শরবত বিক্রির টাকায় চলে সংসার ও ৫ ভাইবোনের পড়ালেখার খরচ

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০২:৩০ অপরাহ্ন, ২রা মে ২০২৪

#

ছবি : সংগৃহীত

তীব্র গরমে মা-মেয়ে বিক্রি করছেন লেবুর শরবত। পথচারীরাও এ শরবত খেয়ে খুশি। এক গ্লাস শরবতে ক্লান্ত পথচারী ও হাসপাতালে আসা-যাওয়া মানুষগুলো একটু স্বস্তি পাচ্ছেন। এদিকে এই লেবুর শরবত বিক্রির টাকায় চলে তাদের সংসার। জোগাড় হয় লেখাপড়ার খরচ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজীর হাওলা গ্রামের ৩নং ব্রিজ এলাকার রাজ্জাক বেপারীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪৫) ও তাদের মেজো মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (২০) গরমে লেবুর শরবত বিক্রি করছেন। মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের প্রধান গেটের রাস্তার ফুটপাতে এই শরবত বিক্রি করছেন তারা। প্রতিদিন হাসপাতালে আসা-যাওয়ার পথে রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন এবং পথচারীরা এ শরবত কিনে খাচ্ছেন। এক গ্লাস শরবত দশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন তাদের বিক্রি হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। সেই টাকায় চলে তাদের সংসার। জোগাড় করা হয় চার বোন ও এক ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ। 

সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা রাজ্জাক বেপারী শীতের সময় পিঠা বিক্রি করেন। কিন্তু শীত গেলে তেমন একটা কাজ করতে পারেন না। মাঝে-মধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তা দিয়ে আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। মামা এ শরবত বিক্রি করতেন। পরে মামার পরার্মশে আমি ও আমার মা শরবত বিক্রি শুরু করি। আল্লাহর রহমতে প্রতিদিন দুই হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। 

আরো পড়ুন : দিনাজপুরে কুকুর বিক্রি করে স্বাবলম্বী যুবক, আয় ২০ লাখ টাকা

ফাতেমা বেগম বলেন, আমার বড় মেয়ে ফাত্তা আক্তার মাদারীপুর সরকারি কলেজে অনার্সে পড়ে। এরপর সুরাইয়া আক্তার কিছু দূর পড়াশোনা করলেও অভাবের কারণে আর হয়নি। সে আমার সঙ্গে লেবুর শরবত বিক্রি করতে সহযোগিতা করে। এরপর অনন্যা আক্তার মাদারীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। মিম আক্তার হাজীর হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ে ময়না আক্তার ও একমাত্র ছেলে দুইজন একসঙ্গেই স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ওর বাবার একার রোজগারে সংসার চালানো সম্ভব না। তাই আমি ও আমার মেয়ে সুরাইয়া এ শরবত বেচার কাজ শুরু করি। কাজকে আমরা কখনই ছোট করে দেখি না। তাই মা ও মেয়ে মিলে এ কাজ করছি।

শরবত খেতে আসা সজীব হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণায় অনেক কষ্ট হচ্ছিল। তাই এখান থেকে ১০ টাকায় এক গ্লাস লেবুর শরবত খেতে পেরে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলাম।

হাসপাতালে মেয়ে নিয়ে আসা শহরের একজন বলেন, হাসপাতালে মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। অনেক সময় লাগবে। গরমে গলা শুকিয়ে গেছে, তাই এখানে এসে এক গ্লাস লেবুর শরবত খেলাম।

মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বলেন, মা ও মেয়ে দুজনে মিলে পরিশ্রম করে পরিবারের খাবার জোগাড়সহ অন্য পাঁচ ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরাও তা পারেন না। তাই আমি বলব, তাদের দেখে অন্যরাও নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করবেন।

এস/ আই.কে.জে/ 


শরবত মা-মেয়ের

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন