শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** হয়তো এখনই নয়, তবে ইরান সরকারের পতন হবেই: ট্রাম্প *** ‘পদত্যাগ ও মেয়াদ পূর্ণ করার কথা—সাহাবুদ্দিন দুটিই বলেন প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে’ *** সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ‘সাধাসিধা’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে যে সুযোগ রয়েছে, তা আগের কোনো দলীয় নেতার ছিল না’ *** অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার *** মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী *** বিতর্কিত শোক প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাসুদ কামাল *** ‘ওসমান হাদি হত্যার পেছনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকতে পারে’ *** ইরান যুদ্ধ কি ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান থামিয়ে দেবে *** রূপপুর থেকে ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে আসবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

‘রাষ্ট্রপতি কি গাদ্দার, দালাল নাকি পুতুল’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:৪৭ অপরাহ্ন, ১৪ই মার্চ ২০২৬

#

ফাইল ছবি

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি দেশের জনগণের স্বার্থের বদলে রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন, তাহলে তার অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।

নিজের ইউটিউব-ভিত্তিক চ্যানেল 'কথা'য় গতকাল শুক্রবার (১৩ই মার্চ) রাতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন। মাসুদ কামাল বলেন, রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, এই পদটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রপতি কি সত্যিই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেন, নাকি রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবেই অনেক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, মাসুদ কামালের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। 

তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

মাসুদ কামাল বলেন, রাষ্ট্রপতি কি গাদ্দার, দালাল নাকি পুতুল—এই প্রশ্নটা মানুষের মনে উঠছে। তার মতে, রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান এমন হলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। 

মাসুদ কামাল আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হওয়ার জায়গা নয়। বরং এটি হওয়া উচিত রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ প্রতীক। কিন্তু যদি রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সেই পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।

তিনি মন্তব্য করেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বড় সমস্যা হলো—প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বদলে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদও বিতর্কের মধ্যে পড়ে যায়।

আলোচনায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির উচিত সংবিধানের সীমার ভেতরে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা। অন্যথায় জনগণের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হতে পারে যে রাষ্ট্রপতি কেবল রাজনৈতিক শক্তির ইঙ্গিতেই কাজ করছেন।

মাসুদ কামাল বলেন, রাষ্ট্রপতির পদটি সংবিধান অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। এই পদে থাকা ব্যক্তির প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত বা অবস্থান রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবমুক্ত থাকে না।

মাসুদ কামাল বলেন, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেক সময় প্রতীকী হলেও সংকটের মুহূর্তে সেই পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির উচিত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সংবিধানের সীমার ভেতরে থেকে দায়িত্ব পালন করা।

মাসুদ কামালের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি শক্তিশালী করা না যায়, তাহলে সংকট থেকেই যাবে।'

তিনি বলেন, 'আমাদের বড় সমস্যা হলো আমরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারিনি। ব্যক্তি বা রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা এত বেশি যে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।'

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে হলে রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখা অপরিহার্য। অন্যথায় রাজনৈতিক সংকট বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

জে.এস/

মাসুদ কামাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250