ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে অবশেষে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়েছে তার পরিবারকে। আজ মঙ্গলবার (২রা ডিসেম্বর) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন তার বোন উজমা খান। দীর্ঘদিন ধরে ইমরানের সঙ্গে পরিবার বা দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীদের দেখা করতে না দেওয়ায় তার মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল। খবর দ্য ডনের।
আজ কারাগারে ইমরানের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলেন উজমা। পরে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভালো আছে। তবে তিনি খুবই রেগে আছেন। ইমরান বলেছেন, তার ওপর মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তাকে সারাদিন কারাকক্ষে আটকে রাখা হয়। অল্প সময়ের জন্য বাইরে যেতে দেওয়া হয়। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না।
উজমাসহ ইমরানের অন্য দুই বোন আলিমা খান ও নোরিন নিয়াজি আজ আগে থেকেই রাওয়ালপিন্ডির ফ্যাক্টরি নাকা এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সেখান থেকে কারাগারের দিকের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। কিছু দূর পরপর বসানো হয়েছিল তল্লাশিচৌকি। এত বাধার পরও কারাগারের দিকে হেঁটে এগিয়ে যান তিন বোন। এ সময় তাদের একটি তল্লাশিচৌকিতে আটকে দেওয়া হয়।
পরে শুধু উজমাকে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এই কারাগারে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বন্দী রয়েছেন ইমরান। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিচারকাজ চলছে। এর মধ্যে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগেও মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার রায়ও দিয়েছেন আদালত। তবে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন ইমরান।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭শে অক্টোবরের পর থেকে কারাগারে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে কাউকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ইমরানের ছেলে কাসিম খান সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, বাবা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা জানতে না পারা একধরনের মানসিক অত্যাচার।
খবরটি শেয়ার করুন